শুক্রবার পুলিশ মালদায় তৃণমূল কংগ্রেস(TMC) নেতা দুলাল সরকারের হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। এই অস্ত্রগুলির মধ্যে একটি ৯ এমএম পিস্তল ও দুটি ওয়ান শটার পিস্তল রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই আগ্নেয়াস্ত্রগুলির সঙ্গে খুনের ঘটনায় জড়িত সাতজন অভিযুক্তকে জেরা করার পর তাদের কাছ থেকে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু অস্ত্রই নয়, পুলিশ খুনের দিন পরিহিত জামাকাপড়, জুতো এবং সাতটি কার্তুজও উদ্ধার করেছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই নতুন তথ্য পুলিশকে খুনের পেছনের আসল কুশীলবদের চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে।
দুলাল সরকারের হত্যাকাণ্ডে বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের মালদা শহরের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি এবং তার ঘনিষ্ঠ স্বপন শর্মা এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তাঁরা দুলাল সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন, যাতে দলের মধ্যে নিজের ক্ষমতা শক্তিশালী করা যায়। এই হত্যাকাণ্ডের পর, নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারিকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকারীরা প্রাথমিকভাবে এলাকাগুলো পরিবর্তন করে পুলিশের নজর থেকে পালাতে চেষ্টা করেছিল। তারা শিলিগুড়ি, নেপাল এবং উত্তরপ্রদেশে ঘুরে বেড়িয়েছিল। পুলিশ আরও জানায়, খুনের দিন ব্যবহৃত মোটরবাইকটির চালক আশরাফ খান এখনও পলাতক রয়েছে। আশরাফ খান হল ‘শার্প শুটার’, যিনি দুলাল সরকারের মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী। পুলিশের ধারণা, আশরাফ খানই হত্যাকাণ্ডে শেষ মুহূর্তে সরাসরি যুক্ত ছিল।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুলাল সরকারের হত্যার জন্য ৫০ লক্ষ টাকার সুপারি দেওয়া হয়েছিল। এই সুপারি ও হত্যার বিস্তারিত পরিকল্পনার পেছনে যে বড় চক্রান্ত ছিল, তা এখন পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। মৃতের স্ত্রী, চৈতালি ঘোষ সরকার, বলেন, “আমি এক আইনজীবীও, আমি জানি যে আরও অনেক লোক এই হত্যায় জড়িত রয়েছে। আমরা এর শেষ দেখতে চাই।” তাঁর কথায়, এটা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং রাজনৈতিক পটভূমিত একটি গভীর চক্রান্তের অংশ।
আরও পড়ুনঃ বিজিবির গুলি চালানোর হুমকিতে উত্তপ্ত সুকদেবপুর সীমান্ত ! কাঁটাতারের কাজ নিয়ে অশান্তি
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ যে দ্রুত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়েছে। পুলিশের তদন্তে নতুন প্রমাণ উঠে আসায় অপরাধীদের চিহ্নিত করা সহজ হয়ে গেছে। যত দিন যাচ্ছে, হত্যার পেছনে আরও বড় কুচক্রের হদিস পাওয়া যাচ্ছে, যা পুরো ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করছে।





