বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বরাবরই অস্থিরতা বিরাজমান। বিশেষ করে, মালদা জেলার বৈষ্ণবনগর থানার সুকদেবপুর সীমান্তে সম্প্রতি এক নতুন ইস্যু নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা বিষয় সাধারণত দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধান হয়, তবে একাধিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মালদা জেলার সুকদেবপুর সীমান্তে কাঁটাতারের কাজ চলছিল, তবে সেই কাজের বিরোধিতা করে বিজিবির সদস্যরা ভারতীয় শ্রমিকদের হুমকি দেন। বিজিবির সদস্যদের দাবি, যদি কাঁটাতারের কাজ অব্যাহত থাকে, তাহলে তারা গুলি চালাতে বাধ্য হবেন। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় তীব্র প্রতিবাদের সুর শোনা যায় স্থানীয়দের মধ্যে। এই বিষয়ে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে, সীমান্তে এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি কি কোনও বড় ধরনের সংঘর্ষের কারণ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
গত কিছু মাসে বাংলাদেশে বিএসএফ ও ভারতের সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে, একাধিক অঞ্চল যেখানে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে, সেখানে স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একদিকে, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি, অন্যদিকে ভারতের বিএসএফ-র মধ্যে সীমান্তে তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশী সম্পর্কের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
এদিকে, সীমান্তের আশপাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষজনের দাবি, ওই এলাকায় কাঁটাতার বসানোর কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিজিবি ভারতের ভূমি দিকে তাক করে বন্দুক রাখা শুরু করেছে। বিজিবির এই আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে ভীতি ছড়িয়েছে। তাদের বক্তব্য, তারা ইতোমধ্যেই সীমান্তে মাটির বাঁধ তৈরি করার সময় কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি। কিন্তু কাঁটাতারের কাজ চলাকালীন বিজিবি কেন বাধা সৃষ্টি করছে, তা স্থানীয়দের কাছে অজানা রয়ে গেছে।
আরও পড়ুনঃ মানবজীবনে নতুন ত্রাস HMPV ভাইরাস? কোভিডের মতোই কি ভয়াবহ হতে চলেছে এই নতুন আতঙ্ক? কি বলছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মৈনাক গুপ্ত?
তবে, সর্বশেষ যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। মালদা জেলার সুকদেবপুর সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর সময় বিজিবি ভারতীয় শ্রমিকদের ওপর আক্রমণাত্মক হুমকি দেয়। তারা জানিয়ে দেয়, যদি কাঁটাতারের কাজ বন্ধ না করা হয়, তবে গুলি চালাতে বাধ্য হবেন তারা। এই হুমকি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলে। তবে, এই ঘটনার পর বিএসএফ এবং বিজিবির মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও, সীমান্তে শান্তি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।






