ন্যক্কারজনক! লড়াই শেষ কোচবিহারের গণধ’র্ষি’তার, নাবালিকার মৃতদেহ নিয়ে রাজনৈতিক বিবাদ, মৃতদেহ হাইজ্যাক করার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে

লড়াই শেষ কোচবিহারের নির্যাতিতা স্কুল ছাত্রীর। নাবালিকা ছাত্রীর মৃত্যুর পর এক ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটল হাসপাতালের সামনে। মর্গের সামনে নাবালিকার শোকার্ত বাবাকে ধরে টানাটানি তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের। দু’দলেরই দাবী, তাদের হাতে মৃতদেহ তুলে দিতে হবে। এরই মধ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মৃতদেহ হাইজ্যাক করার অভিযোগ তোলে বিজেপি।

কী ঘটেছিল ঘটনাটি?

কিছুদিন আগে স্কুলে অসুস্থ হয়ে পড়ে কোচবিহারের খাপাইডাঙায় নবম শ্রেণির ওই নাবালিকা ছাত্রী। সেই কারণে স্কুল ছুটির সময়ের কিছুক্ষণ আগেই বাড়ি ফিরে আসছিল সে। সেই সময় তাকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ। দু’দিন ধরে নাবালিকাকে আটকে রেখে লাগাতার গণধ’র্ষ’ণ করে পাঁচ দুষ্কৃতী। তারপর তাকে কোচবিহারের এন জে এন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে রেখে দিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

হাসপাতাল থেকেই খবর পায় বাড়ির লোকজন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীর। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। আজ, বুধবার লড়াই শেষ হল ওই নাবালিকার। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে এদিন ভোরে মৃত্যু হয় তার।

নাবালিকার মৃত্যুর পর তার বাবাকে নিয়ে টানাটানি

এদিন হাসপাতালের সামনে বিজেপি ও তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের মঘ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা নির্যাতিতার বাবাকে আগলে রাখে। কিন্তু তাদের সরিয়ে ওই ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তৃণমূল। মৃতা নির্যাতিতার বাবাকে নিয়ে রীতিমতো দড়ি টানাটানি শুরু হয়। তুমুল ধ্বস্তাধস্তি শুরু হয় তৃণমূল ও বিজেপির কর্মী সমর্থকদের মধ্যে। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা পথ অবরোধ শুরু করে। বিজেপির দাবী, নির্যাতিতার পরিবার তাদের দলের সমর্থক। 

এতসব অশান্তির মধ্যেই পুলিশ কোনওরকমে নির্যাতিতার বাবাকে উদ্ধার করে। তাঁকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায়। এক নাবালিকা ছাত্রীর এমন মর্মান্তিক পরিণতির পর রাজনৈতিক দলগুলির এই এমন আচরণে কোচবিহার শহরের মানুষ কার্যত ভাষা হারিয়েছেন।

RELATED Articles