‘আবাস যোজনা’র তালিকায় নাম নেতা-বিধায়কদের, অথচ নাম নেই গরীব মানুষদের, এবার আন্দোলনের পথে সত্যিকারের ঘরহারা মানুষরা

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর পাওয়া নিয়ে রাজ্যে এখন বিতর্ক তুঙ্গে। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। আর এর আগেই ঘর বণ্টন নিয়ে নানান বিতর্ক সামনে আসছে। যাদের সত্যিই সরকারি ঘরের দরকার, তাদেরই নাম নেই আবাস যোজনার তালিকায়। এমন অভিযোগ উঠে এল আলিপুরদুয়ার থেকে।

নিজের জমি রয়েছে কিন্তু নেই বাড়ি। কেউ কেউ আবার ভাড়া বাড়িতে থাকেন। কারোর আবার মাটির বাড়ি। কারোর তো আবার ঘর ভেঙে পড়ার জোগাড়। এমন অনেক সাধারণ মানুষের নামই আবাস যোজনার তালিকায় নেই। তাদের অভিযোগ, যাদের পাকা বাড়ি রয়েছে অথবা দোতালা বাড়ি রয়েছে, তাদের নাম রয়েছে আবাস যোজনায়।

এমন অভিযোগ নিয়ে আলিপুরদুয়ারের কালচিনি ব্লকের হ‍্যামিল্টনগঞ্জ এলাকার বেশ কয়েকজন মহিলা বুধবার বিডিও অফিসে আসেন। তাঁদের দাবী, “আমাদের মধ‍্যে কেউ অন‍্যের বাড়িতে থাকে। কারোর ঘর কাচা, কিন্ত আমাদের আবাস যোজনার তালিকায় নাম নেই। অথচ আমাদের এলাকার অবস্থাসম্পন্ন যাদের গাড়ি-বাড়ি আছে, তাঁদের তালিকায় নাম এসেছে”।

আবাস যোজনার সমীক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই আলিপুরদুয়ারে এমন ভুঁড়ি ভুঁড়ি অভিযোগ আসা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, কিভহু কিছু বাড়ির অবস্থা এমনই যে তা যে কোনও সময় ভেঙে পড়তেও পারে। সাধারণ বাসিন্দারা জানান যে এ নিয়ে পঞ্চায়েত অফিসে জানালে বা আন্দোলন করেও কোনও লাভ হয়নি। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে পরবর্তীতে রাস্তা অবরোধ করে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হবেন।

এত গরীব মানুষ কেন ঘর পান নি বা এই আবাস যোজনার তালিকাতেও বা তাদের নাম কেন নেই, তা নিয়ে কোনও সদুত্তর মেলেনি স্থানীয় পঞ্চায়েত ও বিডিও-র তরফে। আলিপুরদুয়ারের তৃণমূল চেয়ারম্যান মৃদুল গোস্বামী বলেন, “অনেকদিন আগে একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। সেই তালিকায় হয়ত কারোর ঘর ছিল না। পরে হয়ত তিনি ঘর বানিয়েছেন। এগুলো নিয়ে শুধু মাত্র বিতর্ক তৈরি করছেন নেতারা”।

অন্যদিকে, এই ঘটনা প্রসঙ্গে কালচিনির বিজেপি বিধায়ক বিশাল লামার বক্তব্য, “এই এলাকায় মূলত চা শ্রমিকরা বসবাস করেন। অনেকেই রয়েছেন যারা ঘর পায়নি। সেই কারণে আমরা আজকে ডেপুটেশন জমা দিতে যাব”।

RELATED Articles