চাকরির প্রথম পাঁচ বছর শিক্ষকদের গ্রামে পোস্টিং, শিক্ষা কমিটির তরফে প্রস্তাব নবান্নে

নতুন শিক্ষা নীতি বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে নবান্ন। অষ্টম শ্রেণী থেকে সেমিস্টার থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিকে এমসিকিউ, এমন নানান নতুন নীতি আনার চিন্তাভাবনা চলছে। শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতি নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়েও নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত। গ্রামের দিকে স্কুলগুলিতে শিক্ষক ও পড়ুয়ার অনুপাত ঠিক রাখতে শিক্ষকদের গ্রামীণ এলাকায় পোস্টিংয়ের বিষয়টি নতুন শিক্ষানীতিতে আনা হতে পারে।

কেন এমন শিক্ষানীতি?

গ্রামের দিকের স্কুলগুলিতে ছাত্র ও শিক্ষকের অনুপাত ঠিক রাখতেই এই গ্রামীণ এলাকায় পোস্টিংয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে শিক্ষা কমিটির তরফে। গ্রামের স্কুলগুলিতে শিক্ষক নেই, এমন অভিযোগ অনেকদিনের। কোনও স্কুলে একশো জন পড়ুয়া থাকলেও, সেখানে নেই শিক্ষক। কারণ শিক্ষকদের পছন্দসই বদলি।

গ্রামের দিকে পোস্টিং হলেও, পরবর্তীতে আবেদনের ভিত্তিতে নিজের পছন্দের এলাকায় বদলি নিয়েছেন শিক্ষকরা, এমন অভিযোগও কম নয়। এর জেরে গ্রামের দিকের স্কুলগুলিতে শিক্ষক না থাকার কারণে বন্ধ হওয়ার পথে একাধিক স্কুল।

নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির পাশাপাশি পোস্টিং নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। হাইকোর্টে চলছে সেই মামলা। অনেকেই টাকার বিনিময়ে না রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজের পছন্দের জায়গায় বদলি নিয়েছেন, এমনই অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর জেরে গ্রামের স্কুলগুলি হয়ে যাচ্ছে শিক্ষকহীন।

কী প্রস্তাব দিল শিক্ষা কমিটি?

এখন নতুন শিক্ষা নীতি নির্ধারিত হচ্ছে। তাই চাকরি পাওয়ার পর প্রথম পাঁচ বছর গ্রামের স্কুলেই শিক্ষকতা করতে হবে, এই বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করার পথে হাঁটতে পারে নবান্ন। পাশাপাশি শিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর নজর দেওয়া হচ্ছে। বার্ষিক মূল্যায়নের মাপকাঠির ওপর নজর দেওয়া হবে। এক জন শিক্ষক সময়ের যথোপযুক্ত আপডেট হচ্ছেন কিনা, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন কী না, এসবের ওপর জোর দেওয়া হবে। তার ওপরেই পদোন্নতি নির্ধারিত হবে।

কী জানাচ্ছে সরকার?

সরকার শিক্ষা কমিটির এই প্রস্তাবের সঙ্গে নীতিগত ভাবে একমত রাজ্য সরকার তথা শিক্ষা দফতর। যদিও এই বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু স্পষ্টভাবে কিছু জানাননি। তিনি শুধু বলেছেন, সরকার সুপারিশগুলি পেয়েছে। সেই ব্যাপারে স্কুল শিক্ষা দফতর ও উচ্চ শিক্ষা দফতর আলোচনা চলছে।

RELATED Articles