নির্বাচনের পর ইভিএমের নিরাপত্তা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হল রাজ্যে। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাট, বন্ধ হয়ে যাওয়া সিসিটিভি, সব মিলিয়ে ক্যানিংয়ের একটি স্ট্রংরুমকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে চাপানউতোর চরমে উঠেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ভোটের পর ইভিএম আদৌ কতটা নিরাপদ?
রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং মহকুমার চারটি বিধানসভা কেন্দ্র গোসাবা, বাসন্তী, ক্যানিং পশ্চিম এবং ক্যানিং পূর্বের ইভিএম রাখা হয়েছে বঙ্কিম সর্দার কলেজের স্ট্রংরুমে। ৩০ এপ্রিল রাত প্রায় ৮টা ৪০ মিনিট নাগাদ আচমকাই গোটা কলেজ চত্বর অন্ধকারে ঢেকে যায়। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্ট্রংরুমের সিসিটিভি মনিটরগুলির একটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয় উপস্থিত রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে।
এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। গোসাবার বিজেপি প্রার্থী বিকর্ণ নস্কর অভিযোগ করেন, এক তৃণমূল বিধায়ক স্ট্রংরুমে ঢোকার পরই হঠাৎ আলো নিভে যায় এবং ক্যামেরাও কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তাঁর দাবি, বাইরে থাকা প্রতিনিধিরা তখন আর মনিটরে কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। তিনি ইতিমধ্যেই রিটার্নিং অফিসারকে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। যদিও পালটা বক্তব্যে তৃণমূল প্রার্থী পরেশরাম দাস বলেন, তিনি স্ট্রংরুমে পৌঁছতেই বিদ্যুৎ চলে যায় এবং প্রায় ২০ মিনিট অন্ধকারে ছিল পুরো এলাকা। পরে জেনারেটর চালু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তাঁরও আশঙ্কা, ইচ্ছাকৃতভাবে লোডশেডিং করে কোনও চক্রান্ত করা হতে পারে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। কলকাতাতেও ইভিএম নিয়ে বিতর্ক চরমে ওঠে। অভিযোগ ওঠে, স্ট্রংরুমে ব্যালট বাক্স খোলা হচ্ছে। এই খবর সামনে আসতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে স্ট্রংরুমে গিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা পাহারায় বসে থাকেন। পরে তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ করা হয়, যেখানে অভিযোগ করা হয় যে রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে বেআইনি কাজ চলছে।
আরও পড়ুনঃ মে মাসের শুরুতেই বড় ধাক্কা! এক লাফে প্রায় ১ হাজার টাকা বাড়ল রান্নার গ্যাসের খরচ! কলকাতায় কত হলো এলপিজির দাম?
তবে এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সমস্ত স্ট্রংরুম যথাযথ নিয়ম মেনেই সিল করা হয়েছে এবং সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, যে ভিডিও বা অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে তা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। কমিশনের বক্তব্য, পোস্টাল ব্যালট আলাদা করার কাজ নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই করা হচ্ছিল এবং ইভিএম রাখা স্ট্রংরুম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ছিল। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলিকে ভুয়ো তথ্য না ছড়ানোর জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।





