১৯৪৭ ও ২০২১-এর পরিস্থিতি সমান বাংলায়, বিজেপির কার্যকারিণী বৈঠকের পরই কী তবে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন?

একুশের নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। এই বিষয়ে রাজভবন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, আদালত ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থও হয়েছে গেরুয়া শিবির। এবার বিজেপির কার্যকারিণী বৈঠকে রাজনৈতিক প্রস্তাবে সেই অভিযোগই আরও বড় আকারে তুলে ধরতে চায় রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব, এমনটাই জানা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রস্তাবের খসড়া অনুযায়ী, এই প্রস্তাবে বাংলার এখনকার অবস্থাকে ১৯৪৭-এর দেশভাগের সময়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। সেই সময় যেভাবে মহিলাদের উপর নির্যাতন হয়েছে, এর থেকেও মারাত্মক হয়েছে ভোট পরবর্তী হিংসায়।

আরও পড়ুন- বিধানসভায় হাজির থাকা সত্ত্বেও সর্বদল বৈঠকে উপস্থিতি নেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর, এই নিয়ে শুরু বিতর্ক

জানা গিয়েছে, আগামীকাল, মঙ্গলবার এই বৈঠক শুরু হবে বেলা ১২টা নাগাদ। বিজেপির হেস্টিংসের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকবেন রাজ্য বিজেপির নেতারা। ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেবেন জেলার নেতারা। বৈঠকে প্রথমে বক্তব্য রাখবেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। শেষ বক্তা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। এছাড়াও বক্তব্য রাখবেন শুভেন্দু অধিকারী, শিবপ্রকাশ-সহ রাজ্যের নানান নেতারা।

এদিনের এই বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রস্তাব পেশ করা হবে। দিনভর আলোচনার পর বৈঠকের শেষে তা পাশ করানো হবে। স্বাধীনতার পুরবে ১৯৪৭ সালের ২০ জুন রাজ্য বিধানসভায় বাংলা ভাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এই দিনটিকে বিজেপি ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালন করে।

বিজেপি সূত্রের খবর, খসড়া প্রস্তাবে এমনও বলা হয়েছে যে, দেশভাগের সময় হিন্দুদের উপরে যে ভাবে আক্রমণ হয়েছিল, তেমই চলছে এখনও। রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসায় মৃত্যু হয়ছে কমপক্ষে ৪০ জন বিজেপি কর্মীরা। ঘরছাড়া ২০ হাজার। ইতিহাস বলছে, দেশভাগের পর একটা বড় সময় ধরে সঙ্ঘর্ষের পরিবেশ ছিল। এখন অল্প সময়ের মধ্যেই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সেই পরিস্থিতিকে ছাপিয়ে যাচ্ছে প্রস্তাবে দাবী করতে চাইছে বিজেপি।

সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে অভিযোগ থাকলেও মহিলা নির্যাতনের উপরেই জোর দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক প্রস্তাবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একুশের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা বড় অংশ ভোট পেয়েছিলেন মহিলাদের থেকে। সেই ভোটে ভাগ বসাতেই এমন এমন কৌশল করেছে বিজেপি, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই জাতীয় মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপি।

অন্যদিকে, রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ও ভোট পরবর্তী হিংসার বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছেন। রাজ্য সরকারকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। এই বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্‌’র সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। তফসিলি জাতি-উপজাতির উপর যে হামলা করা হচ্ছে, তা নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “ভোটের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় লাগামছাড়া সন্ত্রাস চলছে। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। গণতন্ত্রের উপর আঘাত আসছে। দেশে স্বাধীনতার পর থেকে এমন অশান্তি দেখা যায়নি”।

আরও পড়ুন- ‘চরম দুর্নীতি জিটিএ-তে, পাহাড়বাসীর কোনও উন্নতি হয়নি, অডিট হবে’, উত্তরবঙ্গ সফর শেষে দাবী রাজ্যপালের

আগামীকালের কার্যকারিণী বৈঠকে গেরুয়া শিবিরেও এই একই সুর উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপির অনেকেই দাবী করেছেন যাতে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়। আগামীকাল রাজনৈতিক প্রস্তাব পেশের পর সেই দাবী আরও বেশি জোরালো হয়ে উঠতে পারে। রাজ্যে এরপর রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয় কী না, এখন সেটাই দেখার।

RELATED Articles