রাজ্যের সরকারি স্কুল নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। কোথাও কোনও স্কুলে পড়ুয়া রয়েছে তো শিক্ষক নেই, আবার কোনও স্কুলে পড়ুয়াই নেই, শিক্ষকরা স্কুলে এসে সময় কাটিয়ে চলে যান। কোথাও আবার কোনও কোনও স্কুলবাড়ির তো ভগ্নপ্রায় অবস্থা। এবার ফের এক সরকারি স্কুল নিয়ে উঠল অভিযোগ।
আগে স্কুলে তাও ১০০ জনের মতো পড়ুয়া ছিল। কিন্তু এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র একজনে। আর স্কুলে শিক্ষক সংখ্যা ২। মাঝে মাঝে ডুব দেন তারাও। ফলে কার্যত স্কুলে বন্ধ পড়াশোনা। আর এভাবেই দিন চলছে বছরের পর বছর ধরে।
কোথায় ঘটেছে এই ঘটনা?
ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ার পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিধানপল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে পড়ুয়া সংখ্যা কমতে কমতে এক জনে এসে ঠেকেছে। এভাবেই এর আগে তিনটি স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফের স্কুলগুলিকে চালু করার কোনও হেলদোলই নেই ডিপিএসসি-র তরফে। ফলে এবার বিধানপল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয়ও বন্ধের খাতায় নাম লেখাতে চলেছে শীঘ্রই।
এই এলাকায় মূলত নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকজন বাস করেন। একটি স্কুলের উপরই নির্ভর করে থাকে এলাকাটি। এই স্কুলের রয়েছেন ,মাত্র ২ শিক্ষক। তারাও আবার মাঝে মাঝেই ছুটি নিয়ে বাড়িতে বসেই দিন কাটান দিব্যি। স্কুলের এই পরিণতির জন্য স্কুলের শিক্ষকদেরই দায়ী করেছেন এলাকাবাসীরা। স্কুলটি যাতে ভালোভাবে ফের চালু হয়, সেদিকে কোনও উদ্যোগই নেন না শিক্ষকরা। তাদের জন্যই একের পর এক পড়ুয়া ছেড়েছে স্কুল।
কী জানাচ্ছেন ডিপিএসসি-র চেয়ারম্যান?
এ ব্যাপারে ডিপিএসসি-র চেয়ারম্যান পরিতোষ বর্মণ বলেন, “স্কুলটির সমস্যা নিয়ে বার কয়েক মিটিং হয়েছে। জেলায় কোনও স্কুলই বন্ধ হবে না। যাতে ছাত্র ছাত্রী হয় সে ব্যাপারে দেখা হচ্ছে”।
এই বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর মিতালী মজুমদার বলেন, “আগে অনেক ছাত্র ছিল। ওই স্কুলের কাছে বেশ কয়েকটি ইংরেজি মাধ্যম ও নার্সারি স্কুল রয়েছে। অভিভাবকরা চান তাঁদের ছেলে মেয়েরা ইংরেজি মিডিয়াম কিংবা নার্সারি স্কুলে পড়ুক। তাই স্কুলে ছাত্র সংখ্যা কমছে”। তাঁর কথায়, “চেষ্টা হচ্ছে স্কুলটাকে আবার স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনা। আমরাও চাই স্কুলটি যাতে বন্ধ না হয়”।





