মহিলা জুনিয়র চিকিৎসকদের আইটেম সং-এ নাচ করতে বাধ্য করা, টিএমসিপি করতে জোর করা, আন্দোলন প্রত্যাহার করতে হুমকি, অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ ছাত্রনেতা

আর জি কর কাণ্ডে গোটা রাজ্য উত্তাল। দিকে দিকে চলছে আন্দোলন-বিক্ষোভ। তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন সকল স্তরের মানুষ। কর্মবিরতি চলছে জুনিয়র চিকিৎসকদের। এমন আবহের মধ্যেই এবার আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে উঠল ভয়াবহ অভিযোগ।

আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। সিবিআই দফতরে প্রতিদিনই হাজিরা দিচ্ছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে আর জি করের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। আর এরই মধ্যে তাঁরই ঘনিষ্ঠ ছাত্রনেতা মুস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে উঠল গুরুতর অভিযোগ।

অভিযোগ উঠেছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে। সেখানকার জুনিয়র চিকিৎসকরা কর্মবিরতি চালাচ্ছেন আর জি করের ঘটনার প্রতিবাদে। কিন্তু অভিযোগ, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা হুমকি দিচ্ছেন যাতে তাদের সেই আন্দোলন তুলে নেওয়া হয়। মুস্তাফিজুর রহমান-সহ আরও বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন কর্মবিরতিতে থাকা জুনিয়র চিকিৎসকরা।

অভিযুক্তদের বহিষ্কারের দাবী তুলে গতকাল, বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মৌসুমি নন্দীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। এরপর অধ্যক্ষের রুমের সামনে বসেই স্লোগান দিতে থাকেন তারা। যতক্ষণ না ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ততক্ষণ অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে রাখা হবে বলেও জানান তাঁরা। জুনিয়র চিকিৎসকদের অভিযোগ, এই মুস্তাফিজুর রহমান এর আগেও তাদের নানান হুমকি দিয়েছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের যোগ দিতে বাধ্য করত সে ও তাঁর লোকজন। এমনকি, ফেল করিয়ে দেওয়া হুমকিও দেওয়া হত বলে অভিযোগ।

শুধুমাত্র তাই নয়, কলেজের কোনও অনুষ্ঠানে মহিলা জুনিয়র চিকিৎসককে মঞ্চে তুলে তাঁকে আইটেম সং-র নাচ করতে বাধ্য করত এই মুস্তাফিজুর রহমান, এমনটাই অভিযোগ। দাবী, এই মুস্তাফিজুর রহমান এতটাই প্রভাবশালী যে মেডিক্যালের চিকিৎসকরাও তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার তেমন সাহস করেন না।

এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই বেশ শোরগোল শুরু হয় হাসপাতালে। অবশেষে পড়ুয়াদের চাপের মুখে পড়ে অভিযুক্ত ছাত্রনেতাকে মেডিক্যাল চত্বরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সূত্রের খবর, অভিযুক্ত ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ।  

এই বিষয়ে হাসপাতালের শিশুবিভাগের প্রধান তারাপদ ঘোষ বলেন, “ওরা বলেছে ভয় দেখানো হয়েছে। আমরা বলেছি, লিখিত অভিযোগ দিতে। কলেজ কাউন্সিল আবারও বসবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের ডাকা হবে। তদন্ত করে দেখে পদক্ষেপ করা হবে। মুস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ বেশি। ওকে সাময়িকভাবে বলা হয়েছে তুমি এখন তাহলে এসো না। আমরা চাই সুষ্ঠুভাবে সবটা হোক”।

RELATED Articles