আর জি করে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় একের পর এক এমন তথ্য উঠে আসছে যা এই মামলাকে আরও বেশি রহস্যের জটের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। গতকাল, বৃহস্পতিবার প্রথমে সামনে আসে ঘটনার দিন হাসপাতালের সঙ্গে হওয়া নির্যাতিতার মা-বাবার ফোন কলের অডিও রেকর্ডিং। আর এরপরই নির্যাতিতার গায়ে ঢাকা চাদরের রঙ নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। যার জেরে ক্রাইম সিন বদলের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার তিনটি ফোন কলের রেকর্ডিং ভাইরাল হয়, যাতে শোনা গিয়েছে হাসপাতালের মহিলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার ও নির্যাতিতার মা-বাবার ফোনে কথোপকথন। সেখানে হাসপাতালের তরফে তাদের প্রথমে জানানো হয় তাদের মেয়ে অসুস্থ, তারপর জানানো হয় তাদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। প্রথম থেকে দাবী উঠেছিল যে পুলিশের তরফে আত্মহত্যার কথা জানানো হয়েছে। তবে এই ফোন রেকর্ডিং সামনে আসার পর গতকাল সাংবাদিক বৈঠক করে ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় বলেন, “কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে আগেও বারবার বলা হয়েছে, পুলিশ কখনও ফোন করে আত্মহত্যার কথা বলেনি। আজকের ভাইরাল হওয়া অডিয়ো আমাদের সেই বক্তব্যকেই প্রমাণ করেছে”।
এরপরই আসে চাদরের প্রসঙ্গ। ঘটনাস্থলের যে ছবি সামনে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছিল নির্যাতিতার দেহ নীল রঙের চাদরে ঢাকা ছিল। কিন্তু তরুণী চিকিৎসকের মা-বাবার দাবী, তারা যখন সেমিনার রুমে তাদের মেয়েকে দেখেন, তখন তাঁর দেহে সবুজ রঙের চাদর ছিল। চাদর বদলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চাদর বদল মানেই ক্রাইম সিন পরিবর্তন করা। কারণ চাদর যদি বদলে দেওয়া হয় তাহলে অনেক প্রমাণই নষ্ট হয়ে যাওয়া সম্ভব। তাহলে কী সত্যিই প্রমাণ লোপাট করা হয়েছে।
এই নিয়ে যখন পুলিশের দিকে আঙুল উঠছে, সেই সময় ডিসি সেন্ট্রাল নির্যাতিতার মা-বাবার দাবীকে খণ্ডন করে বলেন, “চাদরটা কিন্তু নীল ছিল। আমাদের কেস ডায়েরি, যাতে সব ফটোগ্রাফি বা ভিডিয়োগ্রাফি ছিল, সেখানেও এই নীল রঙই আছে। আমাদের ডেটা রেকর্ডে নীল রঙই আছে। বর্তমানে সিবিআই-এর কাছে কেস ডায়েরি আছে। যাচাই করা যেতে পারে। নীল ছাড়া অন্য কোনও রঙের চাদর আমাদের রেকর্ডে নেই”।
তাঁর কথায়, “আমাদের ডেটা রেকর্ডে নীল রঙই আছে। এখন সিবিআইয়ের কাছে কেস ডায়েরি আছে। সেটা যাচাই করা যেতে পারে। নীল ছাড়া অন্য কোনও রঙের চাদর আমাদের রেকর্ডে নেই। পুলিশের রেকর্ডে চাদরের রঙ নীল লেখা আছে। এখানে সবুজের কোনও উল্লেখ নেই। ঘটনাস্থল থেকে অনেক কিছু বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে”।
আরও পড়ুনঃ ঘটনার দিন তরুণী চিকিৎসকের মা-বাবাকে ফোন করে পুলিশও, কী জানানো হয়েছিল তাদের? প্রকাশ্যে বিস্ফোরক অডিও ক্লিপ
নির্যাতিতার মা এও দাবী করেছেন, তাঁর মেয়ে লাল রঙের চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমোচ্ছিল। তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। এই প্রসঙ্গে ডিসি সেন্ট্রাল জানান, লাল রঙের একটি চাদর ঘটনাস্থলে মিলেছে। সেটি হয়ত তরুণী নিজেই ব্যবহার করেছিলেন। ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের কথায়, লাল রঙের চাদরটি ‘সিজ’ করা হয়েছে। সেটি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সেই চাদর দেহ ঢাকা দেওয়ার জন্য ব্যবহার হয়নি বলে দাবী ডিসি সেন্ট্রালের।





