আর জি করের ঘটনা নিয়ে রাজ্য এখন ফুঁসছে। তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় সরব হয়েছেন সকল স্তরের মানুষ। ন্যায় বিচারের দাবীতে আন্দোলন-প্রতিবাদ চলছে রাজ্যের নানান প্রান্তে। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। তথ্য লোপাট থেকে শুরু করে দোষীদের আড়াল করা, এমন নানান অভিযোগে বিদ্ধ কলকাতা পুলিশ। এমন আবহে এবার কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল ও ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
আর জি করের ঘটনার দিন সেমিনার রুমে দেখা গিয়েছিল থিকথিকে ভিড়। আবার তরুণী চিকিৎসকের দেহে ঢাকা চাদরের রঙ নিয়ে নানান বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্যাতিতার মা জানিয়েছেন, তারা যখন তাদের মেয়েকে দেখেন, তখন তাঁর দসেহে সবুজ রঙের চাদর ছিল। তবে ঘটনাস্থলের যে ছবি প্রকাশ্যে আসে, তাতে দেখা গিয়েছিল তরুণী চিকিৎসকের গায়ে নীল রঙের চাদর ছিল।
তাহলে কী প্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা করা হয়েছে? এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই সাংবাদিক বৈঠক করে ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় জানান, কোনও সবুজ চাদর ছিল না, নির্যাতিতার গায়ে নীল চাদরই ছিল। অন্যদিকে আবার নির্যাতিতার বাবা-মায়ের দাবী, ঘটনার দিন সেমিনার রুমে ছিলেনই না ডিসি সেন্ট্রাল।
এই নিয়ে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন, “ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে রাজ্যপালের দফতরকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করায় কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল ও ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পদক্ষেপ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তাই আরজি কর মেডিক্যালে ধর্ষণ ও খুন নিয়ে তাঁর বক্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য তা নিয়ে নিশ্চিত নই। এই ঘটনায় নির্যাতিতার বাবা – মা ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিতই ছিলেন না, তাহলে জানলেন কী করে যে মৃতদেহের ওপরে কী রংয়ের চাদর রয়েছে? নির্যাতিতার বাবা ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে ১০০ শতাংশ মিথ্যে বলে জানিয়েছেন”।
তাঁর কথায়, কোনও অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্যের কোনও গুরুত্ব নেই আর জি করের ঘটনায়। সেই কারণেই এবার বিধিভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল ও ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্র, এমনটাই খবর।
অমিত মালব্যর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশের আড়ালে লুকিয়ে যত সত্য গোপন করার চেষ্টা করছেন তত বেশি করে সত্য প্রকাশ্যে চলে আসছে। সবার আগে তাঁর পুলিশের পিছনে লুকানো বন্ধ করা উচিত। পশ্চিমবঙ্গ কোনও পুলিশশাসিত রাজ্য নয়”।
প্রসঙ্গত, রাজ্যপালের বিরুদ্ধে যখন শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছিল, সেই সময় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের চিঠি দিয়েছিলেন ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। এরপর ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে পুলিশ পদকে সম্মানিত করেছিলেন।






