শিশুদের তিনদিনের বাসি খিচুড়ি দেওয়ার অভিযোগ, সেই খিচুড়িতেই স্নান করানো হল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিক্ষিকা ও রাঁধুনিকে

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশুদের তিনদিনের বাসি খিচুড়ি দেওয়ার অভিযোগ উঠল। সেই ঘটনাকে ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড। কেন্দ্রের শিক্ষিকা ও রাঁধুনিকে টেনে এনে তাদের গায়ে সেই বাসি খিচুড়ি ঢেলে দিলেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।

কী ঘটেছে গোটা ঘটনাটি?

এই ঘটনাটি ঘটেছে আজ, মঙ্গলবার রায়গঞ্জ ব্লকের বড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের গৈতর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে প্রায়ই বাসি খিচুড়ি দেওয়া হয় শিশুদের, এমনটাই অভিযোগ। শনিবারের জমে থাকা খিচুড়ি মঙ্গলবার শিশুদের দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

এমনটা করতেই হাতেনাতে ধরেন অভিভাবকরা। এরপরই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মীদের সঙ্গে তুমুল বাঁধে গ্রামবাসীদের সঙ্গে। বাসি খিচুড়ি ফেলে দিতে গেলে সেই খিচুড়ির বালতি টেনে নিয়ে সেই খিচুড়িই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিক্ষিকা ও রাঁধুনির গায়ে ঢেলে দেন বিক্ষোভকারীরা।  

কী জানাচ্ছেন অভিভাবকরা?

এই ঘটনা সম্পর্কে রত্না সরকার নামে এক অভিভাবক বলেন, “প্রায়শয়ই বাসি খাবার দেওয়া হয়। শনিবারের বাসি খাবার সোমবার খাওয়ানো হয়। আমরা আজ হাতেনাতে ধরে ফেলেছি”।

কী দাবী অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিক্ষিকার?

এই বাসি খাবার দেওয়ার দায় কেন্দ্রের রাঁধুনির উপর চাপিয়েছেন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী তথা শিক্ষিকা বিজলি তাঁর কথায়, “আমি এভাবে খাবার মিশিয়ে দিতে বারণ করি। তবুও রাঁধুনি এমনটা করে। এতে আমার কোনও দোষ নেই। আমি অভিভাবকদের সেটাই বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছি”। তবে তাতে কোনও লাভ হয়নি। অভিভাবকদের প্রহারের মুখে পড়তে হয়েছে শিক্ষিকাকে।

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যাও জানান যে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিকবার এমন অভিযোগ উঠেছে। তিনি দাবী তুলেছেন যাতে তাদের অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়। এই ঘটনার খবর পেয়ে সুসংহত শিশু বিকাশ প্রকল্পের আধিকারিকরা ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে আসেন। তারা এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন।

RELATED Articles