পুজোর আগেই চালু করা হোক লোকাল ট্রেন, রাজ্যকে চিঠি পূর্ব রেলের

প্রথমে সোনারপুর, তারপর লিলুয়া, খন্যান, পান্ডুয়া। রাজ্যে একাধিক জায়গায় প্রায় নিত্যদিন বিক্ষোভ লেগেই রয়েছে। দাবী, লোকাল ট্রেন চালু করার। পুজোর আগে রেলকর্মীদের জন্য কয়েকটি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করা হলেও লোকাল ট্রেন কবে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও আশার খবর মেলেনি। রেলকর্মীদের জন্য চলা স্পেশাল ট্রেনে নিত্যযাত্রীদের জোর করে উঠে পড়তে বাধা দেওয়ায় বিভিন্ন জায়গার স্টেশনে বিক্ষোভের খবর উঠে এসেছে শিরোনামে। পুজো যত এগিয়ে আসছে লোকাল ট্রেন চালু করার দাবীও তত তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে লোকাল ট্রেন চালু করার আর্জি জানিয়ে রাজ্য সরকারকে বুধবার চিঠি পাঠায় পূর্ব রেল।

এদিন চিঠিতে রেলের জেনারেল ম্যানেজার রাজ্যের ডেপুটি চিফ সেক্রেটারিকে জানান যে, যাত্রীরা লোকাল ট্রেন চালানোর দাবী জানাচ্ছে। পুজো যত এগিয়ে আসছে, সেই দাবীও নাকি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। লোকাল ট্রেন চালানোর দাবীতে বিক্ষোভ যাত্রীরা দেখাচ্ছে রাজ্যের নানান স্টেশনে। বিক্ষোভের জেরে চলছে অবরোধ, ট্রেন ভাঙচুর। এর ফলে রেলের সম্পত্তির ক্ষতি হচ্ছে। তাই পূর্ব রেল চাইছে রাজ্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রেলের সঙ্গে বৈঠক করে লোকাল ট্রেন কবে চালু করা যায়, সেই বিষয়ে আলোচনায় বসুক।

গত ৮ মাস ধরে বন্ধ লোকাল ট্রেনের চাকা। এর ফলে অসুবিধার মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে রেলও। হাওড়া ও শিয়ালদা শাখা মিলিয়ে মোট লোকাল ট্রেনের সংখ্যা ১৩৮৭। এর থেকে রেলের বছরে আয় হয় প্রায় সাড়ে চারশো কোটি টাকা। কিন্তু লকডাউনের জেরে ট্রেন বন্ধ থাকায় গত কয়েকমাস ধরে রেলের আয় কার্যত শূন্য। এই অবস্থায় লোকাল ট্রেন চালু না করলে আরও বড় ক্ষতি হতে পারে রেলের, এই বিষয় জানিয়ে রাজ্যকে চিঠি দেয় রেল কর্তৃপক্ষ।

তবে রাজ্যের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত এই চিঠির উত্তরে কোনওরকম প্রতিক্রিয়া মেলেনি। রাজ্য যদি চায়, তবেই পুজোর আগে ঘুরতে পারে লোকাল ট্রেনের চাকা। কিন্তু অন্যদিকে, পুজোর গোড়াতেই রাজ্যে যেভাবে করোনা সংক্রমণ মাথা চাড়া দিয়েছে, সে ক্ষেত্রে লোকাল ট্রেন চালু হলে তা অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে যাওয়ার একটা আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তাছাড়া, পুজোর পরেও করোনা সংক্রমণ অনেকটাই বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক মহলের একাংশ। এরপর লোকাল ট্রেন চালু হওয়ার পর সেখান থেকে সংক্রমণ ছড়ালে সেসব মানুষকে হাসপাতালে জায়গা দেওয়ার মতো রাজ্যে পরিকাঠামো আছে কি না, সেই নিয়েও রাজ্যকে বারবার সাবধান করেছেন চিকিৎসক মহলের একাংশ।

RELATED Articles