“ধৈর্যচ্যুত ঘটেনি, ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছি আপনাদের জন্য”, ফেসবুক লাইভে ক্ষোভপ্রকাশ রাজীবের

বিগত বেশ কিছুদিন ধরে দলে তাঁর অবস্থান নিয়ে চলছে জল্পনা। নানা কারণেই নিজের বেসুরো মন্তব্যের জন্য খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি। কথা দিয়েছিলেন, সেই মতোই দুপুর ঠিক ৩টের সময় ফেসবুক লাইভে এলেন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

লাইভে তাঁর কথার সারমর্ম এটাই যে, দলে থেকে তাঁকে যদি কাজ করতে না দেওয়া হয়, তাহলে তিনি পিছনে ফিরে আর তাকাবেন না। তবে তিনি এও জানান যে, তিনি এখনও ধৈর্যচ্যুত হননি, তিনি এখনও ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে চলেছেন। অর্থাৎ, রাজীব যে এখনই দল ছাড়ার মতো বড় কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছেন না, তা তাঁর আজকের ফেসবুক লাইভ থেকে বেশ স্পষ্ট।

লাইভে এসে তিনি প্রথমেই সকলকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানান। এও জানান যে আজ থেকে দেশজুড়ে গণটিকাকরণ শুরু হয়েছে। সেই কাজে যাতে সাফল্য আসে, তিনি সেই কামনাই করেন। এদিন তাঁর লাইভ দেখেছেন প্রায় ৬৭,০০০ হাজার মানুষ। সেখানে কমেন্ট পড়েছে ৯ হাজার।

এদিন লাইভে এসে যে কথাটি সবথেকে প্রথমে তিনি তুলে ধরেন, তা হল যুব সমাজকে নিয়ে। তাঁর কথায়, যুব সমাজকে নতুন পথের দিশা দেখাতে হবে। সঠিক নেতৃত্বদানের অভাবে যুবসমাজ লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পড়ছে। তারা এমন একজনকে চাইছে, যে তাদের সঠিক পথ দেখাতে পারবে। এরপরই আক্ষেপ করে রাজীব বলেন, তিনি যখন দেখেন রাজ্যের যুবকেরা চাকরির অভাবে অন্য রাজ্যে বা বিদেশে চলে যাচ্ছেন, তাঁর খুব দুঃখ হয়। তাঁর ক্তহ্য এই রাজ্যে যা মেধা ও সম্পদ রয়েছে, তা আর কোথাও নেই। তাই যুবসমাজের উন্নতিসাধনে তাদের কর্মসংস্থান করতে হবে। আইটি সেক্টরের জন্য কিছু ভালো চিন্তাভাবনা করতে হবে। কাজের পরিবেশ তৈরি হলে তবেই বেকার যুবক যুবতীদের স্বপ্নপূরণ হবে।

এরপর দলের কর্মীদের জন্য তিনি বলেন যে কর্মীদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। কর্মীদের সঙ্গে অবিচার করা হচ্ছে বলে রাজীবের অভিযোগ। তাঁর দাবী, কেউ যেন দলের কর্মীদের শ্রমিক না মনে করে। তারা একটু সম্মান চায়। রাজীবের কথায়, “আমি যেখানে গিয়েছি কর্মীদের সম্মান করেছি। কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করিনি। আমার দলনেত্রীও সেই কথাই বলেন, কিন্তু কোনও জায়গায় কর্মীরা যদি সম্মান না পান, সেটা নিয়ে বলা আমার অন্যায়?”

এরপর দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে রাজীব বলেন যে, “যখনই কোনও ভালো কাজ করতে গেছি, বাধা পেয়েছি। কাজ না করতে পেড়ে দুঃখ পেয়েছি। সেখান থেকেই ক্ষোভ জন্মেছে। সেটা কার সঙ্গে ভাগ করব? আমি যদি কোনও কাজ করতে গিয়ে বাধা পাই, তাহলে সেটা নিয়ে মুখ খোলা কী অন্যায়? নিশ্চয় না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুর তোলাও অন্যায় নয়। কিছু মানুষ ভুল বোঝাচ্ছেন। আমায় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ডাকলে খারাপভাবে কথা বলে। তখন কেউ কিছু বলে না। আমার কী করার থাকতে পারে?”

রাজীবের কথা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজীব এটাই বলতে চেয়েছেন যে, তিনি এখনই দল ছেড়ে কোথাও যাচ্ছেন না। একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি ধৈর্য ধরে আছি। ধৈর্যের পরীক্ষার দিচ্ছি আপনাদের জন্য”। এতে করে গত কয়েকমাস ধরে তাঁকে নিয়ে যে গুঞ্জন উঠেছিল যে তিনি দল ছেড়ে দেবেন বা বিজেপিতে যোগ দেবেন, তা অনেকাংশেই পরিষ্কার হয়ে গেল। তবে শেষে রাজীব এই ইঙ্গিতও দেন যে, মানুষের জন্য কাজ করতে না পারলে, তিনি অন্য পথে হাঁটতে দু’বারও ভাববেন না”।

RELATED Articles