রাজ্য

শিক্ষকের জন্য ১৫ লক্ষ, গ্রুপ সি-ডির চাকরির জন্য ১২ লক্ষ, চাকরি বুঝে নিয়োগের নানান ‘রেট’ বেঁধে দিতেন ‘সৎ রঞ্জন’, জানাল সিবিআই

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছে বাগদার ‘সৎ রঞ্জন’ ওরফে চন্দন মণ্ডল। প্রার্থীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই টাকা তুলতে আবার জেলায় জেলায় এজেন্ট নিয়োগ করেছিলেন ‘রঞ্জন’, এমনটাই জানা গেল সিবিআই সূত্রে।

ছিলেন একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী। সেখান থেকে কীভাবে কয়েক বছরের মধ্যেই কোটিপতি হয়ে উঠলেন এই চন্দন মণ্ডল, তা খতিয়ে দেখছে সিবিআই। টিনের চাল থেকে তিনতলা বাড়ি, বিলাসবহুল জীবনযাপনই বা কীভাবে অল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। সিবিআই সূত্রে খবর, প্রায় দেড় হাজার প্রার্থীর থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে তাদের চাকরির ব্যবস্থা করেছিলেন চন্দন।

সিবিআইয়ের সূত্রে খবর, প্রাথমিক নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষকের চাকরি থেকে শুরু করে, স্কুলের গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, সকলের নানান চাকরির চাহিদাই মেটাতেন ‘সৎ রঞ্জন’। আর এর জন্য নানান রেট বেঁধে দিয়েছিলেন তিনি। গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি নিয়োগের জন্য চন্দন মণ্ডলের রেট ছিল প্রার্থী পিছু ৮ থেকে ১২ লক্ষ টাকা। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ছিল ১৪ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা। নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের জন্য দিতে হত ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা।

সূত্রের খবর, বাম জমানাতে সিপিএমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এই চন্দন মণ্ডল। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই ক্রমশ উত্থান শুরু হয় এই ব্যক্তির। এক আত্মীয়ের মাধ্যমেই তার যোগাযোগ হয় পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও শিক্ষা দফতরের নানান অধিকর্তাদের সঙ্গে। জেলার রাজনীতিতে ক্রমেই প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন চন্দন। জানা গিয়েছে, প্রায় দশ বছর আগে ১০ জন প্রার্থীর থেকে তিন লক্ষ টাকা করে নেন তিনি। এরপর থেকেই চলতে থাকে এই ‘ব্যবসা’।

এই টাকা তোলার কাজের জন্য এলাকার একাধিক যুবককে তিনি এজেন্ট ও সাব-এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ করেন। প্রাথমিক পর্ষদ থেকে শুরু করে মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক দফতরে অবাধ যাতায়াত ছিল এই চন্দনের। প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রের মাধ্যমেই উত্তর ২৪ পরগণা-সহ পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর নানান জেলায় নিজের এজেন্টদের ছড়িয়ে দেন তিনি। এই এজেন্টরাই টাকা তুলত প্রার্থীদের থেকে।

জানা গিয়েছে, চন্দনের বাড়িতে প্রার্থীদের ভিড় লেগেই থাকত। তাঁর তিনতলা বাড়ির পেছনে একটি ঘরে প্রার্থীদের বসানো হত আর সেখানেই চলত দর কষাকষি। সিবিআই জেরায় চন্দন জানিয়েছেন যে টাকা তুললেও তিনি শুধুমাত্র কমিশন পেতেন। এজেন্টদেরও কমিশন দিতে হত। আর বাকি টাকা চলে যেত প্রভাবশালীদের কাছে। সিবিআইয়ের অনুমান, পার্থ চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য ধৃত শিক্ষা দফতরের অধিকর্তাদের কাছেই সেই টাকা পৌঁছে যেত। এই  নিয়ে আরও তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই।

Back to top button
%d bloggers like this: