শতাব্দীর সব থেকে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় আমফানের সাক্ষী থাকলো গোটা দক্ষিণবঙ্গ। ১৮৫কিমি প্রতি ঘন্টায় সেই ঝড় আছড়ে পড়েছিল দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলার ওপরে। আজ সেই ধ্বংসলীলার চার দিন অতিবাহিত হয়েছে, কিন্তু তাও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও বিদ্যুৎহীন। কোথাও বা এখনও গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ। এই নিয়ে শুক্রবার থেকেই মানুষের মধ্যে বিক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। এমনকি পথে নেমে অবরোধও শুরু করেন তাঁরা। শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে উদ্ধারকাজে সময় লাগার একাধিক কারণ বলেন, তার মধ্যে অন্যতম হল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর রাজ্য সফর।
এদিন তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, ‘আপনারা জানেন শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে আমাকে ২টো বেলা থাকতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তার খাতিরে আমলা ও পুলিশ আধিকারিকরা যথেষ্ট ব্যস্ত ছিলেন, ফলে সে দিন কোনও কাজই করা সম্ভব হয়নি।’
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার আমফান বিপর্যস্ত এলাকাগুলি দেখতে আসার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানান খোদ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বলব, এসে দেখে যান। কী ভয়াবহতা গিয়েছে।’ এরপরই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তরফে জানানো হয়, শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং।
শনিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি আমফানের সতর্কতা নিয়েও রাজ্য প্রশাসনকে “সিরিয়াস নয়” বলেছিলেন ঝড়ের পূর্বেই। তিনি এই বিষয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিমানে এসে হেলিকপ্টারে করে এলাকা পরিদর্শন করে আবার বিমানে ফেরত চলে গিয়েছেন। এতে প্রশাসনের কী দায়িত্ব? প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরাই সব ব্যবস্থা করেছেন।’ দিলীপবাবু আরো জানান, ‘প্রবল বেগে ঘূর্ণিঝড় আসছে জেনেও সঠিক প্রস্তুতি নেয়নি রাজ্য সরকার। এখন পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় নানা অজুহাত দিয়ে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।’





