দু’জনকে দেওয়া হয় পাঁচ হাজার টাকা করে। স্ত্রীর হাত কাটার জন্য দুই দুষ্কৃতীকে মোট দশ হাজার টাকা দেয় কেতুগ্রামের রেণু খাতুনের স্বামী শরিফুল। কাজ হয়ে যাওয়ার পর সেই টাকা পেয়েও গিয়েছিল। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর সব সত্যি স্বীকার করল দুই দুষ্কৃতী হাবিব শেখ ও আশরাফ আলি শেখ।
সরকারি হাসপাতালে নার্সের চাকরি পেয়েছিলেন কেতুগ্রামের রেণু খাতুন। তাঁর স্বামী শরিফুল তেমন কোনও কাজ করেন না। স্ত্রীর চাকরি পাওয়ার খবর হীনমন্যতায় ভুগে তাঁর ডানহাত কেটে দেওয়ার পরিকল্পনা আঁটেন তিনি। গত সোমবার রাতে দুই ভাড়াটে গুণ্ডাকে দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রী রেণুর ডানহাতের কব্জি কেটে দেন শরিফুল।
ঘটনার পরই উধাও হয়ে যায় সে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা ছিল যে বন্ধুদের দিয়েই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে শরিফুল। তবে পরে আসল সত্যিটা সামনে আসে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে গড় মঙ্গলবার শরিফুলের বাবা সিরাজ সেখ ও মা মেহেরনিকা বিবিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সেই রাতেই বর্ধমান-মুর্শিদাবাদ সীমান্ত এলাকা থেকে শরিফুলকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জেরা করার পর পুলিশ জানতে পারে যে শরিফুল কাজ হাসিল করতে সুপারি দিয়েছিল। এরপরেই মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা দুই দুষ্কৃতী হাবিব শেখ ও আশরাফ আলি শেখের খোঁজ শুরু করে পুলিশ।
শরিফুলকে ভালোভাবে জেরা করে গতকাল, বুধবার গভীর রাতেই মুর্শিদাবাদের তালগ্রামে অভিযান চালায় পুলিশ। হাবিব ও আশরাফের বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ। সেই সময় ছাদ থেকে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। তবে শেষরক্ষা হয়নি।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই দুই অভিযুক্ত কেরলে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিল। তাদের থেকে কেরলে যাওয়ার ট্রেনের টিকিট উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, এর আগেও একাধিক অপরাধ করে কেরলে গিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে ওই দুই অভিযুক্ত। সেখানে তারা শ্রমিকের কাজ করত বলে জানা গিয়েছে।
আজ, বৃহস্পতিবার হাবিব ও আশরাফকে কাটোয়া আদালতে পেশ করে পুলিশ। তাদের সঙ্গে শরিফুলের যোগাযোগ কীভাবে হল, মুর্শিদাবাদ থেকে বর্ধমানের কেতুগ্রামে তারা কিভাবেই বা এল, এই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।





