গাঁজার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত পুলিশ, সত্যি সামনে আনায় একবছর জেলবন্দি সাংবাদিক, বেআইনিভাবে বাতিল ভোটার কার্ড, অবশেষে জামিন মঞ্জুর আদালতের

খোদ পুলিশই যুক্ত রয়েছে গাঁজার ব্যবসার সঙ্গে। এই নিয়ে সমস্ত প্রমাণ ছিল এক পোর্টালের সাংবাদিকের কাছে। নাম দেবু দেবনাথ। আর ঘটনাই সামনে আনায় ফল ভুগতে হল তাঁকে। একবছর ধরে জেল খাটতে হল ওই সাংবাদিককে। শুধু তাই-ই নয়, তাঁর ভোটার কার্ড বাতিল করে কেড়ে নেওয়া হল তাঁর ভারতের নাগরিকত্বও। প্রশ্ন উঠছে রাজ্য সরকার ও রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।

ঘটনাটি ২০২০ সালের শেষের দিকে। সেই সময় এক ইউটিউবের সাংবাদিক একটি স্টিং অপারেশন চালান মসলন্দপুরে। এক গাঁজার ব্যবসায়ীর থেকেই তিনি জানতে পারেন যে ওই এলাকায় গাঁজার ব্যবসা চালাচ্ছেন খোদ মসলন্দপুর থানার আইসি। এই প্রসঙ্গে একটি ভিডিও প্রমাণও ছিল ওই সাংবাদিকের কাছে।

সেই প্রমাণ নিয়েই পুলিশে অভিযোগ জানান ওই সাংবাদিক। এছাড়াও, অভিযোগ করেন সিআইডি, নারকোটিক্স ব্যুরোতেও। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয়নি। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই সাংবাদিক। কিন্তু এরই মধ্যে পুলিশের এই সত্যি সামনে আনার জন্য আরও অন্যান্য নানান মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয় ওই সাংবাদিককে।

২০২১ সালের মে মাস থেকে জেলবন্দি তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিটও ফাইল করা হয়। কিন্তু জামিন পান নি ওই সাংবাদিক। কারণ রাজ্য সরকার তাঁর ভোটার কার্ডই বাতিল করে দেয়। হ্যাঁ, পুলিশের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার জন্য এই ফল ভুগতে হয় তাঁকে। ভোটার আইডি কার্ড না থাকার কারণে আদালতে রাজ্যের তরফে দাবী করা হয় যে ওই সাংবাদিক এই দেশের নাগরিকই নন, আর তাঁর জামিনও মঞ্জুর হয় না।

এরই মধ্যে এই খবর জানতে পারেন আইনজীবী তথা বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যে ক’টি মামলা চলছিল, সেই কাগজপত্র দেখে তিনি জানতে পারেন যে কোনও নোটিশ ছাড়াই ওই সাংবাদিকের ভোটার আইডি কার্ড বাতিল করা হয়েছে। তবে ওই সাংবাদিকের বাকি সমস্ত আইডি অর্থাৎ প্যান কার্ড, আধার কার্ড, সবই রয়েছে।

এরপর এই মামলা নিয়ে আদালতে শুনানি থাকলে, এই সমস্ত বিষয়ের দিকে বিচারপতির আলোকপাত করান তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। বিচারপতি রাজ্যের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন যে ওই সাংবাদিককে কী কোনও নোটিশ দেওয়া হয়েছিল যে তাঁর ভোটার কার্ড বাতিল করা হচ্ছে? কারণ এভাবে হঠাৎ করে কোনও আইডি কার্ড বাতিল করা যায় না। কোনও জবাব ছিল না রাজ্য।

ওই সাংবাদিকের আধার কার্ড আদালতে পেশ করেন তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। ভারতীয় আধার কার্ডের সংক্রান্ত ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নিয়ে পেশ করা হয় আদালতে। এর থেকে প্রমাণ হয় যে ওই সাংবাদিক আসলে ভারতেরই নাগরিক এবং এরপরই ওই সাংবাদিকের জামিন মঞ্জুর করে আদালত। শুধু তাই-ই নয়, আদালতের তরফে এও জানানো হয় যে পুলিশের সত্যি সামনে আনার জন্যই ওই যুবককে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, এরপর এও জানা যায় যে রাজ্য সরকার ওই সাংবাদিকের রেশন কার্ডও বাতিল করেছে। এখনও দুটি মামলা চলছে ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। তবে তরুণজ্যোতি তিওয়ারি আশা রেখেছেন যে ওই মামলাতেও খুব তাড়াতাড়ি জামিন পাবেন ওই সাংবাদিক। তবে তিনি প্রশ্ন রেখেছেন যে পুলিশের এই সত্যি সামনে আনার জন্য কেন এত বড় খেসারত দিতে হবে এক নিরীহ যুবককে? রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে যেখানে আসল সত্যি সামনে ধরলে এভাবে গলা টিপে চুপ করানো হচ্ছে!

RELATED Articles