‘মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমতায় রাখার জন্যই শুধুমাত্র ভবানীপুরে ভোট হবে’, উপনির্বাচন নিয়ে তোপ দাগলেন রুদ্রনীল

আজ, শনিবার রাজ্যের তিন কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। বলা হয়েছে আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর ভবানীপুরে। রাজ্যে গোসাবা, খড়দা, শান্তিপুর, দিনহাটা -সহ মোট পাঁচটি কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও শুধুমাত্র ভবানীপুরেই উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন ভোট হওয়ার কথা মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুরে। ভবানীপুরের সম্ভাব্য প্রার্থী খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট গণনা হবে ৩রা অক্টোবর।

এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, “নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তটাকে খুব অদ্ভুত লাগছে। এর কারণ নির্বাচন কমিশন বিশ্বাস করছে ভবানীপুরের মানুষেরই বারবার বিধায়ক পাওয়ার অধিকার আছে। মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় নন্দীগ্রাম থেকে হেরেছেন শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। তাঁকে মুখ্য়মন্ত্রী করানোর জন্য ভবানীপুরে শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়কে বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগপত্র দিতে বলা হল”।

আরও পড়ুন- ‘ভবানীপুরেই হঠাৎ ভোট কেন, বাকী কেন্দ্রে কেন নয়? কমিশনকে প্রভাবিত করা হয়েছে’, দাবী দিলীপ ঘোষের

রুদ্রনীল আরও বলেন, “আমি ওখানে ৪৩ হাজার ভোট পেয়েছিলাম। শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায় পেয়েছিলেন ৭০ হাজার। এর মধ্য়ে তৃণমূল সমর্থক, গুন্ডা, পুলিশের সমর্থন পেয়েছিলেন। আমি কয়েকজন আহত বিজেপি কর্মীর ভোট পেয়েছি আর তাতেই এই সংখ্যাটা এত। একদম শূন্য নয়, বা একদম কম নয়। শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়কে অপমান করে সরানো হল। উনি সেটা মুখোমুখি স্বীকার করতে পারবেন না”। একুশের নির্বাচনে ভবানীপুর থেকেই বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন রুদ্রনীল। উপনির্বাচনেও তিনিই প্রার্থী হবেন কী না, এ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

এদিন উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমরা চিন্তায় আছি। হঠাৎ ভবানীপুরেই কেন ভোট হবে? তাহলে বাকি কেন্দ্রে কেন নয়”? এ দিন কমিশনের তরফে বলা হয় যে সাংবিধানিক প্রয়োজনীয়তার কারণে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপ নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী বিধায়ক না হতে পারলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন- প্রচারের ভাষা সেই মোদীই! পাঁচ রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন থেকেই নতুন অভিযান বিজেপির

বিজেপির সঙ্গে একই সুরে সুর মিলিয়েছে সিপিএমও। সিপিএম নেতা রবীন দেব বলেন, “এমনটা আগে কখনও হয়নি”। তাঁর কথায়, ভবানীপুর নিয়ে যদি সাংবিধানিক সংকটে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে সেই একই যুক্তি খাটে খড়দা কেন্দ্রের জন্যও। সেখানকার বিধায়ক নির্বাচন হওয়ার পর মারা গিয়েছেন। এই কারণে বাম নেতা মনে করছেন, এই একই যুক্তিতে খড়দা কেন্দ্রেও নির্বাচন হওয়া উচিত।

RELATED Articles