Accident : চোখের সামনে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! সল্টলেক কাঁপাল ডেলিভারি বয়ের মৃত্যুতে, উত্তেজনা-গাফিলতি অভিযোগে সরগরম এলাকা!

কলকাতার সল্টলেকে বুধবার বিকেলে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, যা মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক এবং ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া দৃশ্য এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল যে উপস্থিত প্রত্যেকের মনে গেঁথে গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশের প্রতিক্রিয়া ছিল হতাশাজনক, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এদিন সন্ধ্যার পর থেকেই গোটা এলাকায় বাড়তে থাকে উত্তেজনা, জমতে থাকে জনতার ভিড়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেল পাঁচটার কিছু পর সল্টলেকের ৮ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সিগন্যালে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সৌমেন মণ্ডল নামে এক ডেলিভারি বয়। তাঁর একপাশে ছিল আরেকটি বাইক, আর অন্য পাশে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়েছিল একটি সাদা চারচাকা গাড়ি। হঠাৎ পাশ থেকে কালো রঙের একটি গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারে সৌমেনের বাইকে। প্রচণ্ড ধাক্কায় তিনি রাস্তার ধারের রেলিংয়ের দিকে ছিটকে পড়েন এবং মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিংয়ে ধাক্কা মেরে বিস্ফোরিত হয়।

দুর্ঘটনার পর মুহূর্তেই কালো ধোঁয়া ও আগুনে ঢেকে যায় এলাকা। সৌমেন রেলিংয়ের মাঝে আটকে পড়ে যান, আর জ্বলন্ত গাড়ির আগুনে দগ্ধ হন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেই সময় উদ্ধারকাজে তৎপরতার অভাব ছিল। সৌমেনকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনার পরই এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সময় থাকলেও পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল, যা এক তরুণের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের দিকে ইট-পাথর ছুড়তে শুরু করে, পাল্টা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অনিচ্ছাকৃত খুন এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এফআইআর করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এতক্ষণে কেন কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে মৃতের পরিবার।

আরও পড়ুনঃ Jalpaiguri: রাজগঞ্জে লেপ্টোস্পাইরা ও স্ক্রাব টাইফাসের হাহাকার! গ্রামের মানুষ জ্বর ও ব্যথায় দিশেহারা, চলছে স্বাস্থ্যদপ্তরের সতর্কবার্তা!

সৌমেন মণ্ডল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী ব্লকের হিরন্ময়পুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। দরিদ্র পরিবারে জন্ম, বাবা তাপস মণ্ডল ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। সংসারের হাল ধরার জন্য সৌমেন ডেলিভারি বয়ের কাজ নেন। স্বপ্ন ছিল পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার, কিন্তু এক মূহুর্তের দুর্ঘটনা সেই স্বপ্ন চিরতরে ভেঙে দিল। গ্রামে এখন শুধুই শোক আর ক্ষোভের বাতাবরণ।

RELATED Articles