আর জি কর কাণ্ডের পর রোগী কল্যাণ সমিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকরা। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন রোগী কল্যাণ সমিতি ভেঙে দেওয়া হবে। রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকবেন সেই হাসপাতালেরই অধ্যক্ষ। কোনও রাজনৈতিক নেতা এই পদ পাবেন না। তবে সরকারি প্রতিনিধি থাকবেন সেই সমিতিতে।
এবার রাজ্যের ২৪টি মেডিক্যাল কলেজে রোগী কল্যাণ সমিতিতে সরকারি প্রতিনিধিদের নাম প্রকাশ করল রাজ্য সরকার। আর সেই নাম প্রকাশ হতেই দেখা গেল, সেই তালিকায় শান্তনু সেনের নাম নেই। শান্তনু সেন রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু এবার সমিতির প্রতিনিধি হিসেবেও কাটা গেল তাঁর নাম। তাঁর সঙ্গেই এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন সুদীপ্ত রায় ও নির্মল মাজিও।
স্বাস্থ্য দফতরের তরফে যে নতুন তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, এসএসকেএমের সরকারি প্রতিনিধি হচ্ছেন অরূপ বিশ্বাস, এনআরএসে সুপ্তি পান্ডে, আর জি করে অতীন ঘোষ, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে শশী পাঁজা, সাগর দত্তে মদন মিত্র, মালদহ মেডিক্যালে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে গৌতম দেবকে, ক্যালকাটা ন্যাশানাল মেডিক্যালে জাভেদ খান, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে খোকন দাস, বাঁকুড়া সম্মিলনীতে অরূপ চক্রবর্তী, মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে অপূর্ব সরকার, রায়গঞ্জে কৃষ্ণ কল্যাণী, রামপুরহাটে আশিস বন্দ্যোপাধ্য়ায়, কোচবিহারে অভিজিৎ দে ভৌমিক ও আরামবাগে প্রফুল্লচন্দ্র সেন সরকারি মেডিক্যাল কলেজের প্রতিনিধি মিতালি বাগ।
প্রসঙ্গত, ধীরে ধীরে যেন বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন শান্তনু সেন। আর জি কর কাণ্ড নিয়ে বারবার সরব হয়েছিলেন তিনি। তাঁর নানান মন্তব্যে বেশ অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে শাসক দলকে। চিকিৎসকদের থেকে টাকা নিয়ে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বদলি করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ এনেছিলেন শান্তনু পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের পেনাল অ্যান্ড এথিক্যাল কমিটির সদস্য বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। এমনকি, আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের গ্রেফতারির পর তাঁকে নিয়েও নানান মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ মেট্রোয় নিত্যযাত্রীদের জন্য বেজায় খারাপ খবর, চলতি মাস থেকেই ভাড়া বাড়ছে মেট্রোর, এবার যাতায়াত আরও খরচসাপেক্ষ
তাঁর এমন মন্তব্যের পর সেই সময় তাঁকে তৃণমূলের মুখপাত্রের পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি, কিছুদিন আগে শান্তনুর নিরাপত্তাও প্রত্যাহার করে রাজ্য সরকার। আর এবার রোগী কল্যাণ সমিতিতেও ঠাঁই হল না তাঁর। অনেকেরই ধারণা, এবার কী তাহলে তৃণমূল দল থেকেও খুব জলদি নাম কাটতে চলেছে শান্তনুর?





