রাজ্যের রাজনীতিতে হঠাৎ করেই এক নতুন মোড়। দীর্ঘদিনের পরিচিত এক মুখের অবস্থান বদল ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। পুরনো রাজনৈতিক সম্পর্ক, দীর্ঘদিনের লড়াই, সব কিছুর মাঝেই এই পরিবর্তন যেন নতুন করে প্রশ্ন তুলছে অনেক অজানা সমীকরণ নিয়ে। স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল, ঠিক কী কারণে এই সিদ্ধান্ত?
এই জল্পনার মধ্যেই সামনে আসে বড় খবর। বহু বছর ধরে কংগ্রেসের হয়ে লড়াই করা কলকাতা পুরনিগমের অভিজ্ঞ কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক এবার যোগ দিলেন বিজেপিতে। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি। শুধু দলবদলই নয়, তাঁকে আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী করা হতে পারে বলেও জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
দলবদলের পরই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাল্টাপাল্টি। বিজেপিতে যোগ দিয়ে সন্তোষ পাঠক সরাসরি তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর ওয়ার্ডে পাঁচজন আইপিএস আধিকারিকের নেতৃত্বে বুথ দখল করে ছাপ্পা ভোট দেওয়া হয়েছিল। তিনি স্পষ্ট বলেন, “যে ভাবে ভোট করানো হয়, তা আর হতে দেওয়া হবে না।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, এবার বদলের হাওয়া বইবে।
তবে দল পরিবর্তন করলেও পুরনো দল কংগ্রেস সম্পর্কে কোনও কড়া মন্তব্য করেননি সন্তোষ। বরং কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীকে ‘ভাল নেতা’ বলেই উল্লেখ করেন। এদিকে, কংগ্রেস নেতৃত্বও এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেন তিনি দল ছাড়লেন, তা তাদের কাছে স্পষ্ট নয় এবং ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক।
আরও পড়ুনঃ West Bengal SIR: “১০ লক্ষের কাছাকাছি নাম বাদ!” আজ প্রকাশ সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা, কারা হারাল ভোটাধিকার, আর কারা শেষ মুহূর্তে রইল? নাম না থাকলে কি করবেন?
দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে সন্তোষ পাঠক চারবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৫ সালে প্রথমবার জয়ী হওয়ার পর থেকে নিজের এলাকায় শক্ত ভিত গড়ে তুলেছেন। এবার সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে তিনি নতুন দলে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, আর চৌরঙ্গী আসনে প্রার্থী হলে কী ফল হবে সেই দিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।





