রাজ্যে ভোটের দামামা বাজতেই প্রশাসনিক অন্দরে অস্থিরতা যেন ক্রমশ বাড়ছে। একের পর এক বদলি, নতুন দায়িত্ব আর কড়া নজরদারির মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচনী প্রস্তুতি। সাধারণ ভোটারদের একাংশ যেমন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও চলছে হিসাব-নিকাশ। ভোটের আগে এই ধারাবাহিক রদবদল কি শুধুই নিয়মমাফিক, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় কোনও বার্তা তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই আবারও বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এবার সরাসরি রিটার্নিং অফিসারদের স্তরে হাত পড়েছে। সূত্র অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সুপারিশ মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কতজন এবং কীভাবে এই বদলি কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে শুরুতে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি, ফলে কৌতূহল আরও বেড়েছে।
শেষমেশ কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার হয় পুরো বিষয়টি। মোট ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। ১৯ ও ২৩ মার্চ পাঠানো ইমেলের প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, ২৪ মার্চ বিকেল ৫টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নতুন কর্মস্থলে পৌঁছতে হবে। এরপর ২৫ মার্চ সকাল ১১টা থেকে তাঁদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে। পুরো প্রক্রিয়ার উপর কড়া নজর রাখার কথাও বলা হয়েছে।
রাজ্যে মোট ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র থাকায় সমসংখ্যক রিটার্নিং অফিসার রয়েছে। তাঁদের মধ্যেই এই বড়সড় রদবদল কার্যকর হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বদলি হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায় মোট ১৩ জন। পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় নতুন দায়িত্বে আসছেন একাধিক আধিকারিক, যেমন তমলুক, বিধাননগর, মুর্শিদাবাদ ও তুফানগঞ্জে নতুন নিয়োগ দেখা যাচ্ছে। এমনকি নজর কেড়েছে ভবানীপুর কেন্দ্রেও বদলির ঘটনা।
আরও পড়ুনঃ Santosh Pathak joins BJP: কংগ্রেস ছেড়ে পদ্ম শিবিরে সন্তোষ পাঠক! ২০২১ ভোট নিয়ে বড় অভিযোগে কীসের ইঙ্গিত, দলবদলের নেপথ্যে আসল কারণ কী?
উল্লেখযোগ্যভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসারকেও সরানো হয়েছে, যা নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। এর আগেও ভোট ঘোষণা হতেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের বদলি করেছিল কমিশন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার এই সিদ্ধান্ত। কমিশনের এই পদক্ষেপ নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, চিঠি লিখে অসন্তোষও জানিয়েছেন। ফলে ভোটের আগেই প্রশাসনিক বদল ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর যে আরও বাড়বে, তা স্পষ্ট।





