ধর্ষণ করে খুন চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে, পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ, ফাঁড়িতে আগুন, পুলিশকে ঝাঁটাপেটা ক্ষিপ্ত জনতার, রণক্ষেত্র এলাকা

আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ খুনের ঘটনায় উত্তাল রাজ্য। উৎসবের মধ্যেও চলছে প্রতিবাদ-আন্দোলন। এই ঘটনায় যখন গোটা রাজ্যে তোলপাড় চলছে, সেই সময়ই এক চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ উঠল। সেই ঘটনায় রণক্ষেত্র এলাকা। পুলিশকে ঝাঁটা হাতে তাড়া করেন স্থানীয়রা, ঝ্যাঁটাপেটাও করা হয়েছে বলে খবর।

ঘটনাটি ঘটেছে জয়নগরের মহিষমারির কৃপাখালিতে। সেখানকার বাসিন্দা এক চতুর্থ শ্রেণীর গতকাল, শুক্রবার টিউশন পড়তে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরোয় বলে খবর। কিন্তু সন্ধ্যে পেরিয়ে রাত হয়ে গেলেও সে বাড়ি না ফেরায় দুশ্চিন্তা করতে থাকেন পরিবারের লোকজন। জয়নগর থানায় যান ওই ছাত্রীর বাবা।

তিনি মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ লেখাতে চান থানাতে। কিন্তু অভিযোগ, পুলিশসেই সময় অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে। থানা থেকে ফিরে আসেন অসহায় বাবা। এরপর গভীর রাতে বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরে এক জলাভূমি থেকে উদ্ধার হয় ওই ছাত্রীর নিথর দেহ। জানা গিয়েছে, একাধিক ক্ষতচিহ্ন ছিল ছাত্রীর শরীরে। পরিবার ও স্থানীয়দের দাবী, ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে।

পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানোর ব্যবস্থা শুরু করে। তবে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয়রা। তাদের দাবী, পুলিশ যদি আগেই তৎপর হত, তাহলে ছাত্রীকে খুন হতে হত না। ঝাঁটা হাতে পুলিশকে ধাওয়া করেন তারা। পুলিশকে একপ্রস্থ ঝ্যাঁটাপেটাও করা হয় বলে খবর।

স্থানীয়রা জানান, জয়নগর থানার অন্তর্গত ওই এলাকার কাছেই মহিষমারি পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে। ওই এলাকা অপরাধ প্রবণ হওয়ার কারণে সেখানে পুলিশ ক্যাম্প রাখা হয়েছে। দিনরাত থাকে পুলিশ ক্যাম্পে। তা সত্ত্বেও কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্থানীয়রা। আজ, শনিবার সকালে লাঠি হাতে রাস্তায় প্রতিবাদ করেন এলাকার মহিলারাও। মহিষমারি পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে চলে ভাঙচুর। ফাঁড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন বলে খবর। দফায় দফায় তারা পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান।

আরও পড়ুনঃ অবশেষে কর্মবিরতি প্রত্যাহার, সরকারকে ডেডলাইন বেঁধে দিয়ে আমরণ অনশনের হুঁশিয়ারি জুনিয়র চিকিৎসকদের

জানা গিয়েছে, স্থানীয়রা রাস্তায় জায়গায় জায়গায় বাঁশ ফেলে রাস্তা অবরোধ করেন। পুলিশ পাল্টা লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এই ঘটনায় এলাকার যুবক মোস্তাকিন সর্দারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বাড়িতেও ভাঙচুর চালান স্থানীয়রা। অভিযুক্তকে জেরা করছে পুলিশ। এই মুহূর্তে উত্তপ্ত ওই এলাকা। এলাকায় মোতায়েন বিশাল পুলিশ বাহিনী।  

RELATED Articles