আর জি কর কাণ্ড নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্য-রাজনীতি উত্তপ্ত। দীর্ঘদিন ধরে কর্মবিরতি পালন করেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। অবশেষে প্রায় ৫৮ দিন পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন তারা। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলে গতকাল, শুক্রবার রাত থেকেই ডোরিনা ক্রসিংয়ে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন তারা। তাদের এই বিক্ষোভের নেপথ্যে এবার সিপিএম, নকশাল যোগের দাবী তুললেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।
কর্মবিরতি তুলেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। তবে গতকাল সন্ধ্যে ৮টা ১৫ মিনিট থেকে সরকারকে ২৪ ঘণ্টা ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন তারা। তাদের দাবী, এই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি সরকার তাদের দাবী পূরণ না করে, তাহলে তারা আমরণ অনশন করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাদের এই হুঁশিয়ারির পাল্টা হিসেবে সিপিএম-নকশাল সংগঠনের বিরুদ্ধে প্ররোচনার অভিযোগ আনলেন কুণাল ঘোষ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় টুইট করে কুণাল লেখেন, “সকালেই লিখেছিলাম, কর্মবিরতি তুলে অনশনের ছক হচ্ছে, পুজোর মুখে প্ররোচনামূলক নাটক করতে। মিলল তো”?
এই বিষয়ে গতকাল, শুক্রবার সকালেই কুণাল ঘোষ টুইটে লিখেছিলেন, “দুই সিপিএম, নকশাল সিনিয়র এখন জুনিয়রদের বোঝাচ্ছেন আমরণ অনশন করতে। পুলিশ তুললে ছবিও হবে, কর্মসূচিও শেষ। সরকারকে আমার অনুরোধ, অনশন হলে নিরাপত্তায় পুলিশ থাকুক। কিন্তু অনশনে যেন সরকার হস্তক্ষেপ না করে। অনশন ওঁরা করলে করুন। কেউ অসুস্থ হলে জুনিয়র, সিনিয়ররা দেখবেন। তাঁরা বুঝবেন”।
https://twitter.com/KunalGhoshAgain/status/1842238664526479647?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1842238664526479647%7Ctwgr%5Ea15f6389dac32ab39364fc99a381465be16ff4b0%7Ctwcon%5Es1_&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.thewall.in%2Fwest-bengal%2Fkolkata%2Fcpm-naxal-behind-doctors-protest-at-dharmatala-kunal%2Ftid%2F139141
প্রসঙ্গত, গতকাল, শুক্রবার সন্ধ্যেবেলা যখন জুনিয়র চিকিৎসকরা ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, সেই সময় মিছিলের মধ্যে ঢোকে পুলিশ। তাদের সরঞ্জাম রাখতে বাধা দেয়। এক চিকিৎসককে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দেয় পুলিশ। এমনকি, লাথিও নারা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান জুনিয়র চিকিৎসকরা। তাদের দাবী, পুলিশকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। সেই দাবীতেই ফের ডোরিনা ক্রসিংয়ে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।
বলে রাখি, এর আগে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে দীর্ঘ ১১ দিন অবস্থান বিক্ষোভ করেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। এবার ধর্মতলাতেও শুরু হয়েছে তাদের অবস্থান। তবে আজ, শনিবার থেকে জুনিয়র চিকিৎসকদের কাজে ফেরার কথা। অবস্থান বিক্ষোভ করলে কাজে ফেরা কীভাবে সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আবার তাদের বেঁধে দেওয়া ডেডলাইন অনুযায়ী সরকার তাদের দাবী মেনে নেয় কী না, বা তারা কী সত্যিই অনশনের পথে হাঁটবেন, এখন সেটাই দেখার!






