বেশ কিছুদিন ধরেই জলের ট্যাঙ্কের পাশ থেকে ভীষণ দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। কিন্তু ঠিক কোথা থেকে গন্ধটা আসছিল, কেউই ঠাওর করতে পারছিলেন না। এদিকে সেই ট্যাঙ্কের জলই পান করছিল স্কুলের বাচ্চারা। অবশেষে সেই দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে জলের ট্যাঙ্ক খুলতেই যা দেখা গেল, তাতে চোখ কপালে উঠল সকলের। সেই জলের ট্যাঙ্কের মধ্যে ভাসছে ম’রা কুকুর। সেই জলই পান করে চলেছে স্কুল পড়ুয়ারা। এমন ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়।
কোথায় ঘটল এই ঘটনা?
এই ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর দু’নম্বর ব্লকের আমদাপাল জুনিয়র হাইস্কুলে। এই ঘটনায় চরম বিক্ষোভ দেখিয়েছেন অভিভাবকরা। এই ট্যাঙ্কের জল খেয়েছে পড়ুয়ারা। এবার যদি তাদের কোনও ক্ষতি হয়, শরীর খারাপ হয়, তাহলে সেই দায় নেবে কে? সেই প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা। তাদের আরও অভিযোগ, স্কুলে কোনও নিরাপত্তাই নেই। রাতের অন্ধকারে স্কুলের ভিতরেই সমাজ বিরোধীদের আখড়া বসে। আর সেদিকে কোনও হেলদোল নেই কারোর।
অভিভাবকদের অভিযোগ, জলের ট্যাঙ্কে গত দু’দিন ধরে ম’রা কুকুরের বাচ্চাটা ভাসছিল। পচেগলে ফুলে উঠেছিল সেটি। কেউ বা কারা সেটি স্কুলের জলের ট্যাঙ্কে ফেলে দিয়ে গিয়েছে। পচা গন্ধ ছড়াতে স্কুল কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। জলের ট্যাঙ্কের ঢাকনা চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় সকলের।
জানা গিয়েছে, সে দৃশ্য দেখেই অনেকে গন্ধে বমি করে ফেলে। আর এদিকে সেই জলের ট্যাঙ্কের জলই স্কুলের বাচ্চারা গত দু’দিন ধরে খেয়েছে। এলাকাবাসীর দাবী, স্কুল পড়ুয়াদেরই নাকি ছাদে উঠিয়ে ট্যাঙ্কে নামতে বাধ্য করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। বাচ্চাদের দিয়েই নোংরা পরিষ্কার করানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
কী বলছেন অভিভাবকরা?
এক অভিভাবকের কথায়, “কুকুর বাচ্চা কে বা কারা ফেলেছে জানি না। বাচ্চারা জল খেতে গিয়ে দেখছে গন্ধ বেরচ্ছে। তখন বাচ্চাগুলোকে ট্যাঙ্কের ভিতরে কী আছে দেখার জন্য মাস্টার মশাই উপরে পাঠিয়ে দেয়। এখন যদি ওদের কিছু হত তার দায় কে নিত”?
অভিভাবকরা দাবী করেছেন যাতে স্কুলের নিরাপত্তার জন্য সিভিক ভলান্টিয়ার বসানো হয়। এই খবর পেয়েই স্কুলে পৌঁছয় বেলিয়াবাড়া থানার পুলিশ। অভিভাবকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি সামলান তারা।
এই ঘটনায় ঝাড়গ্রামের ডিপিএসসি চেয়ারম্যান জয়দীপ হোতা বলেছেন, “কুকুরের বাচ্চা তো নিজে এসে পড়ে যায়নি। কেউ ইচ্ছা করে এই কাজ করেছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। যে বা যারা এই কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার