‘মুখ ফসকে বলে ফেলেছিলাম’, এক সপ্তাহে CAA লাগুর দাবী করে এখন ডিগবাজি শান্তনুর, চরম কটাক্ষ কুণালের

লোকসভা নির্বাচন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ফের একবার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। বিজেপি নেতৃত্বের তরফে বারবার দাবী করা হচ্ছে যে শীঘ্রই লাগু হবে সিএএ। কিন্তু সেটা কবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এরই মধ্যে আবার কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর দাবী করেছিলেন যে এক সপ্তাহের মধ্যেই নাকি সিএএ লাগু হবে গোটা দেশে। কিন্তু তা হয়নি। এবার নিজের সেই দাবীর প্রেক্ষিতে তিনি বললেন, সেটা নাকি ‘স্লিপ অফ টাং’ ছিল।

কী ব্যাখ্যা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী?

গতকাল, শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানা এলাকার কুঠিবাড়িতে মতুয়া মহাসংঘের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শান্তনু ঠাকুর। সেখানেই সিএএ নিয়ে নিজের দাবীর প্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা দেন তিনি। বলেন, “আমি তো বলেছি, আমার একটা জিনিসে বলায় ভুল হয়েছিল। প্রসেসিংটা চলছে। আমি বলতে চেয়েছিলাম, সাত দিনের মধ্যে প্রসেসিংটা হয়ে যাবে। ওটা আমার মুখ ফস্কে বেরিয়েছে”।

তবে এরপরই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে আশার বাণীও দেন তিনি। বলেন, “কিছুদিনের মধ্যেই আপনারা দেখবেন, সিএএ হচ্ছে। আমি এখনও বলছি গ্য়ারান্টি দিয়ে, সিএএ হচ্ছে। এটা আমার গ্যারান্টি নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গ্যারান্টি”।

সিএএ লাগু নিয়ে কী বলেছিলেন শান্তনু ঠাকুর?

গত ২৮ জানুয়ারি দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপির নিশ্চিন্তপুরে সভামঞ্চ থেকে শান্তনু ঠাকুর বলেছিলেন, “যাঁরা ১৯৭১ সালের পরে এসেছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দরকার। কারণ, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত করতে হবে। বিজেপি সরকার সিএএ চালু করলে আর কোনও সরকারের ক্ষমতা নেই, আমাদের যখন খুশি ঘাড়ধাক্কা দিয়ে দেশ থেকে বার করে দেয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার সিএএ চালু করবে”।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে কটাক্ষ তৃণমূলের

শান্তনু ঠাকুর নিজের বক্তব্যকে ‘স্লিপ অফ টাং’ বলে ব্যাখ্যা দেওয়ায় তা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি বললেন, “ওটা স্লিপ অফ টাং নয়। মিথ্যা বলতে বলতে এভাবে একদিন জিভটাই খসে পড়বে”।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী দ্বিতীয়বার সরকার গঠনের পর ২০১৯ সালে পাশ হয়েছিল নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ। কিন্তু এরপর অনেকগুলো বছর কেটে গেলেও সেই আইন কার্যকর হয়নি। এই নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বিগ্নতা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই এই আইনের বিরোধিতা করে এসেছেন। তাঁর কথায়, সিএএ লাগুর কোনও প্রয়োজন নেই। বাংলায় সিএএ লাগু হবে না বলেই জানিয়ে দেন তিনি। আর এবার শান্তনু ঠাকুরের এহেন ‘স্লিপ অফ টাং’-এর ফলে মমতার সেই দাবীর পালেই হাওয়া লাগল বলে মনে করা হচ্ছে।

RELATED Articles