বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখে চোখ রেখে একের পর এক উত্তর দিয়ে খবরের শিরোনাম দখল করলেন আইপিএস অফিসার নগেন্দ্র ত্রিপাঠী।
গতকাল ছিল বঙ্গ নির্বাচনের সবচেয়ে হাই ভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ। সেই নন্দীগ্রামের বয়ালে বুথে প্রবেশ করে পুলিশকে একের পর এক প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করেন মুখ্যমন্ত্রী তথা ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্নবাণের মুখে পড়ে দমে না গিয়ে নয়, বরং তাঁর চোখে চোখ রেখে কথা বলার স্পর্ধা দেখালেন এক আইপিএস অফিসার। নিজের উর্দির কলার টেনে তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম, খাকি পরে দাগ নেব না।’ বৃহস্পতিবার এমনই দুর্লভ ঘটনার সাক্ষী থাকলো বিতর্কিত নন্দীগ্রাম।
আরও পড়ুন – নন্দীগ্রামে ভোটের পরেই হবে হিংসাত্মক লড়াই, তড়িঘড়ি জেলাশাসককে চিঠি পাঠালেন এই নেতা!
প্রসঙ্গত গতকাল ভোট চলাকালীন তৃণমূল অভিযোগ তোলে নন্দীগ্রামের বয়ালে, বয়াল মক্তব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭ নম্বর বুথে জোড়াফুল শিবিরের এজেন্টকে বার করে দেওয়া হয়েছে। ওই বুথে ছাপ্পা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে বিজেপি-র বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে দুপুর সওয়া ১টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় নিজের অস্থায়ী আস্তানা থেকে বেরিয়ে মমতা সোজা চলে যান বয়ালে। দু’ঘণ্টা বসে থাকেন বুথে। সেখান থেকেই ফোন করেন রাজ্যের রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকড়কে।
আরও পড়ুন – সুখবর, আজ থেকেই এতটা কমছে ভর্তুকিযুক্ত রান্নার গ্যাসের দাম!
বয়ালের ওই বুথের ভিতরে মমতার মুখোমুখি হন নগেন্দ্র। তাঁকে সামনে পেয়ে মমতা আক্রমনাত্মক মেজাজে প্রশ্ন করেন, “আমাকে একটা কথা বলো, ২০০ মিটারের মধ্যে কেউ থাকতে পারে না। তবে ওঁরা কী ভাবে ২০০ মিটারের মধ্যে আছে?” নগেন্দ্র উত্তর দেন, “এখন নেই ম্যাডাম। আপনি চেক করতে পারেন।” এরপরই মমতার তোপ, “২০০ মিটারের মধ্যে কী করে আছে? ওঁরা তো এই খানে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছিল? সকাল থেকে সুনীলকে অনেকবার বলা হয়েছে। তোমাকেও অনেকবার বলা হয়েছে। কিন্তু…” মুখ খোলেন নগেন্দ্র, বলেন, “আমি এখানে পার্সোনালি ঘুরে দেখে গিয়েছি ম্যাডাম।” কিন্তু শান্ত হননি মমতা। উত্তর শুনে কিছুটা উত্তেজিত গলাতেই তৃণমূল সুপ্রিমো পাল্টা বলেন, “কিছু লাভ নেই। ও সব তোমরা শিখিয়ে দাও। আমরা এখানে যাচ্ছি, সরে যা। অবজার্ভার যাচ্ছে, সরে যা। ফর নাথিং নন্দীগ্রামটাকে তোমরা ইস্যু করলে কিন্তু। ‘ এরপরও মমতার চোখে চোখ রেখে কথা বলার স্পর্ধা দেখার নগেন্দ্র ত্রিপাঠী। কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে বলেন, “ম্যাডাম, এই খাকি পরে দাগ নিই না। আমি আপনাকে আশ্বস্ত করছি। এই পরে দাগ নেব না।”
তবে শুনতে নারাজ মমতা। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীও পাল্টা বলেন, “দাগ তো সবাই নিয়ে নিয়েছে।” নগেন্দ্রর জবাব, ‘‘আমি নেব না ম্যাডাম। আমি এখানে পার্সোনালি দেখে গিয়েছিলাম। এখানে এমন কোনও সমস্যা ছিল না। হতে পারে পরে জড়ো হয়েছে। সরিয়ে দিয়েছি। আপনাকে আশ্বস্ত করছি যে আমরা শান্তিপূর্ণ ভোট করাব। যে ভোটার আছে ওরা ভোট করাবে।”
নগেন্দ্রর সঙ্গে কিছু ক্ষণ এমন টানটান কথোপকথন চালানোর পর, বুথ ছেড়ে বেরিয়ে যান তৃণমূলনেত্রী।
প্রসঙ্গত এর আগে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও এইরকম স্বচ্ছ ভাবমূর্তিতেই দেখা গিয়েছিল নগেন্দ্র ত্রিপাঠিকে।





