বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু এই অবস্থাতেও তৃণমূলের ভাঙ্গন অব্যাহত।
আপাত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, আজ অর্থাৎ শুক্রবার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা শাসক দল তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের মেন্টর মোহন শর্মার। তাঁর সঙ্গেই বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন কালচিনির আরও কয়েকশো তৃণমুল কর্মী।
তৃণমূল ত্যাগের কারণ হিসেবে মোহন শর্মা জানিয়েছেন, ঘাসফুল শিবিরে যথেষ্ট সম্মান না পেয়ে এবং কাজ করতে না পেরেই তাঁর এই দলত্যাগের সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে মোহন শর্মার মতো নেতাকে পেলে আলিপুরদুয়ারে নির্বাচনের আগে সংগঠন আরও মজবুত হবে বলেই মনে করছে গেরুয়া শিবির।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাংলার এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে জোর কদমে প্রচার চালাচ্ছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। আগামীকাল শুক্রবার আলিপুরদুয়ারের কালচিনিতে নির্বাচনী প্রচারে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্। কালচিনির সুভাষিনী চা বাগানে সভা করবেন তিনি। সেখানেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তৃণমুলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের মেন্টর মোহন শর্মার। তবে শুধু একা নন। সঙ্গে বিজেপিতে নিয়ে যাবেন কয়েকশো তৃণমূল কর্মীকেও বলে খবর।
তাঁর দলের ত্যাগের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে, কালচিনি আসনে প্রার্থী ঘোষণার পরেই অসন্তোষ দেখা দেয় তৃণমূল ও বিজেপির অন্দরে। পাশং লামাকে প্রার্থী করে তৃণমূল। পাশাপাশি বিশাল লামাকে টিকিট দেয় বিজেপি। যার জেরে ক্ষোভ তৈরি হয় দুই শিবিরেই। পরবর্তীকালে বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমস্যা মিটে গেলেও তৃণমূলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। এরপরেই সপ্তাহখানেক আগে সাংবাদিক সম্মেলন করে সরকারি ও দলীয় পদ ছেড়ে দেন মোহন শর্মা। যদিও এই প্রসঙ্গে মোহন শর্মা নিজে জানাচ্ছেন, তিনি এলাকার ভূমিপুত্র। প্রায় ৯০ বছর ধরে সেখানে বসবাস করে তাঁর পরিবার। চিরকালই তিনি মানুষের জন্য কাজ করে এসেছেন। কিন্তু যখন বুঝতে পারলেন যে তৃণমূলে আর সম্মান পাওয়া যাচ্ছে না এবং কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না, তখনই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
আরও পড়ুন – সুখবর, আজ থেকেই এতটা কমছে ভর্তুকিযুক্ত রান্নার গ্যাসের দাম!
তবে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও বিরূপ মন্তব্য করেননি তিনি। একইসঙ্গে কোনও পদের লোভে নয়, একজন সাধারণ কর্মী হিসেবেই তিনি বিজেপিতে যোগ দেবেন বলেও জানান মোহন শর্মা।
অন্যদিকে মোহন শর্মার মতো নেতা শেষ পর্যন্ত যোগ দিলে নির্বাচনের আগে দলের অনেকটাই লাভ হবে বলে মনে করেছেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি নেতৃত্ব।