আন্দোলনের রাস্তায় বঞ্চনার বিরুদ্ধে সরব চাকরিহারা শিক্ষকরা (Teacher Protest) নিজের কষ্টে অর্জিত চাকরি যদি একদিন হঠাৎ কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে সেই মানুষটা কতটা অসহায় হয়ে পড়তে পারে, তা একমাত্র সেই ব্যক্তি জানেন। গত কয়েক মাস ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এমন অসংখ্য চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা পথে নেমেছেন নিজেদের হারানো অধিকারের দাবিতে। বৃষ্টি, রোদ, বা প্রশাসনিক হুমকি—কিছুই তাঁদের দাবির লড়াইকে থামাতে পারেনি। প্রতিদিন তাঁরা একটাই কথা বলছেন, “চাকরি ফিরিয়ে দাও”। অথচ তাঁদের দিকে সহমর্মিতার হাত বাড়ানোর বদলে কখনও লাঠি, কখনও নোটিস ধরাচ্ছে প্রশাসন।
আন্দোলনের জায়গাটা ছিল বিকাশ ভবনের সামনের রাস্তায়। স্কুল সার্ভিস কমিশনের বাতিল প্রার্থীরা যখন সেই রাস্তা জুড়ে বসেছিলেন, তখন কেউ ভাবেনি যে মুহূর্তের মধ্যে এমন সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হবে। পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি, লাঠি চালানোর অভিযোগ এবং আহত বিক্ষোভকারীদের আর্তনাদ—সবটাই যেন এক দুঃস্বপ্ন হয়ে রয়ে গেল সেদিনের বিকেলে। আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস না দিলে উঠবেন না, এই ছিল তাঁদের সিদ্ধান্ত।
এই ঘটনার পরেই পুলিশ সক্রিয় হয়। শুক্রবারই বিধাননগর উত্তর থানায় মামলা দায়ের করে তারা। অভিযোগ, আন্দোলনকারীরা সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করেছেন, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দিয়েছেন। শুরু হয় তদন্ত। এরই মাঝে উঠে আসে ১৭ জন শিক্ষকের নাম। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে এ নিয়ে সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আন্দোলনকারীদের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁরা এই বিষয়ে তাঁদের আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ১৭ জন শিক্ষককে নোটিস পাঠিয়ে আগামী ২১ মে সকাল ১১টায় বিধাননগর উত্তর থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। নোটিসে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৩৫(৬) ধারায় তাঁদের গ্রেফতার করা হতে পারে। নোটিসে আরও উল্লেখ রয়েছে, তদন্তে উঠে এসেছে যে, ওই শিক্ষকরা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট ও আইনশৃঙ্খলা ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন, সেই কারণেই তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুনঃ Operation Sindoor : “পাকিস্তানের ১০০ কিমি ভিতরে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস!”—অপারেশন সিঁদুর নিয়ে অমিত শাহের গর্জনে উত্তাল দেশ!
প্রসঙ্গত, এর আগে গত এপ্রিল মাসেও রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ডিআই অফিস ঘেরাও করেছিলেন চাকরিহারা প্রার্থীরা। সেই সময়ও কসবায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। একাধিক ঘটনায় পুলিশি হস্তক্ষেপ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। তবে এবার বিকাশ ভবনের ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হয়ে গেল। আন্দোলনরত ১৭ জন শিক্ষককে নোটিস পাঠানো এবং হাজিরা না দিলে গ্রেফতারির হুঁশিয়ারি—এ যেন চাকরিহারাদের উপর চাপ সৃষ্টি করার নতুন কৌশল বলেই মনে করছেন আন্দোলনকারীরা।





