কথা ছিল প্রথম দফায় টিকা পাবেন চিকিৎসক, নার্স, ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিন্তু সেই চিকিৎসক, নার্সদের জন্য আসা টিকা নিলেন একাধিক তৃণমূল নেতা-বিধায়ক। করোনা পরিস্থিতির সময় তৃণমূলের উপর আরোপ এসেছিল তারা চালচোর। এবার এই ভ্যাকসিন নেওয়ার পর এবার তাদের ‘ভ্যাকসিন চোর’ বলেও দেগেছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
এদিন চিকিৎসক, নার্সদের জন্য আসা করোনার টিকা নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই জন্মদিন পালন করলেন আসানসোল পুরনিগমের স্বাস্থ্য বিভাগের বিদায়ী মেয়র পরিষদ দিব্যেন্দু ভগৎ। এদিন করোনার টিকা নেওয়া নিয়ে তিনি দাবী করেন যে, তিনি পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন, তিনি প্রথম সারির যোদ্ধা। তাই তিনি করোনা টিকা নিয়েছেন। তিনি এও দাবী করেন যে, তিনি আগে টিকা নিয়ে বাকিদের উৎসাহিত করছেন।
এর পাশাপাশি তিনি এই বার্তাও দেন যে, করোনা ভ্যাকসিন একেবারেই নিরাপদ, কোনওরকম ভয়-ভীতি ছাড়াই মানুষ এই টিকা গ্রহণ করতে পারেন। অন্যদিকে, বিতর্ক বাড়িয়ে করোনার টিকা নিলেন কাটোয়ার তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। এই বিষয়ে জলঘোলা হলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, “আমিই সামনের সারির করোনার যোদ্ধা”।
এমন একটি ঘটনা ঘটেছে উত্তরবঙ্গেও। তিনি ডক্টরেট, ডাক্তার নন, তবুও টিকাপ্রাপকদের তালিকায় সর্বপ্রথম নাম ওঠে আলিপুরদুয়ারের তৃণমূল বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীর। এই তালিকা সামনে আসতেই শুরু হয় শোরগোল। এই বিষয়ে সোচ্চার হয় বিজেপি। খবরের শিরোনামে উঠে আসেন সৌরভ। এর জেরে কার্যত চাপের মুখে পড়েই তিনি বলেন যে তিনি করোনা পরিস্থিতির সময় রোগী কল্যাণ সমিতির হয়ে অনেক কাজ করেছেন, এই কারণে হয়ত তাঁর নাম তালিকায় উঠেছে। চাপে পড়েই তিনি ঘোষণা করেন যে তিনি টিকা নেবেন না।
উল্লেখ্য, দু’দিন আগেই করোনার টিকা নিয়ে আলোচনা করার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেন যে, করোনার প্রথম দফার টিকা শুধুমাত্র করোনা যোদ্ধাদের জন্য। কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা-বিধায়ক যাতে টিকা নেওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি না করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সেই কথা শুধুমাত্র কথা হয়েই থেকে গেল। সেই নির্দেশ উড়িয়ে টিকা নিলেন একাধিক তৃণমূল নেতা-বিধায়ক।





