সন্দেশখালি (Sandeshkhali)! নামটা শুনলেই যেন এখন মনে পড়ে সেই ঝাঁটা-লাঠি হাতে নিয়ে মহিলারা একজোট হয়ে আন্দোলন করছেন নিজেদের সম্মান রক্ষার্থে, নিজেদের অধিকার বুঝে নেওয়ার জন্য। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন তারা। কিন্তু সেই সন্দেশখালিতে এবার খেলা ঘুরিয়ে দিল তৃণমূল। সেখানকার আন্দোলনকারী মহিলারাই এবার যোগ দিলেন ঘাসফুল শিবিরে।
ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু করেই কার্যত আগুন জ্বলে ওঠে সন্দেশখালিতে। সেখানকার মহিলারা তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান ও তাঁর সাগরেদদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন জোর করে জমি দখল, শ্লী’ল’তা’হা’নি ও নারী নির্যাতনের। হাতে ঝাঁটা, লাঠি নিয়ে বিক্ষোভ দেখান তারা। সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাদের সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয় উত্তর সর্দার, শিবু হাজরাদের। কিন্তু লোকসভা ভোটের আগেই হঠাৎ পাল্টে গেল সন্দেশখালির সমীকরণ।
আজ, শনিবার তৃণমূলের বসিরহাটের প্রার্থী হাজি নুরুল ইসলামের সমর্থনে ভোট প্রচার করতে সন্দেশখালি গিয়েছিলেন মন্ত্রী সুজিত বসু। যদিও এদিন অনুপস্থিত ছিলেন প্রার্থী নিজে। সুজিত বসু জানান, হাজি নুরুল ইসলামকে অন্য জায়গায় যেতে হয়েছে। এদিন সুজিত বসুর উপস্থিতিতেই সন্দেশখালিতে আন্দোলনকারী মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে যোগ দেন তৃণমূলে।
এই যোগদান প্রসঙ্গে সুজিত বসু বলেন, “সন্দেশখালিতে কিছু ঘটনা ঘটেছে অস্বীকার করি না। অনেকেই গ্রেফতার হয়েছিলেন। এখানে অন্যায় হয়েছিল। তার প্রতিকারও দিদি দিয়েছেন। আদিবাসীদের জমি জোর করে দখল করা যাবে না বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জমি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। সরকারকে বিশ্বাস করুন। বিজেপিকে করবেন না। কখনও ভুল করবেন না”।
ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়ে আন্দোলনকারীরা এদিন বলেন, “আমাদের দলবল বাড়ছে। আমরা অরাজনৈতিক আন্দোলন করেছিলাম। সেই আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে বিজেপি এসে রাজনৈতিক ফায়দা তুলছে। প্রার্থীও করছে এই কারণে। আমরা ভেবেছিলাম সবাই একসঙ্গে থাকব। ওরা আমাদের ভাগাভাগি করছে। আমাদের আন্দোলনকে বিশ বাঁও জলে ফেলে দিয়ে চলে গিয়েছে”।
বলে রাখি, সন্দেশখালি আন্দোলনের অন্যতম প্রতিবাদী মুখ ছিলেন রেখা পাত্র। তিনিই প্রথম সংবাদমাধ্যমে তাদের উপর হওয়া অত্যাচারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। সেই রেখা পাত্রকে বসিরহাট কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করে বড় স্ট্রোক দিয়েছে বিজেপি। তৃণমূলও যে পিছিয়ে থাকবে না তা বেশ স্পষ্টই ছিল। এবার আন্দোলনকারী মহিলাদেরই দলে টেনে পাল্টা দিল তৃণমূল, তা বলাই যায়।






