ইটভাটায় কাজ চলাকালীন ঘটে গেল বড়সড় দুর্ঘটনা। আচমকাই আগুন ধরে যায় ইটভাটার চিমনিতে। এরপরই তা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। চিমনির তলায় চাপা পড়ে যান ৩০-৩৫ শ্রমিক। মৃত্যু হয়েছে ৩ শ্রমিকের। গুরুতর জখম ২০ জন। তাদের মধ্যে আবার ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগণার বসিরহাটের ইটভাটায়। গতকাল, বুধবার সন্ধ্যেবেলা ইটভাটায় চলছিল ফায়ারিংয়ের কাজ। সেই সময় ইটভাটার চিমনিতে আগুন ধরে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পর চিমনিটি। চিমনির তলায় চাপা পড়ে যায় ৩০-৩৫ জন শ্রমিক। দু’জনের মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলেই।
খবর পেয়েই উদ্ধারকাজে হাত লাগান স্থানীয় বাসিন্দা ও ইটভাটার অন্যান্য শ্রমিকরা। প্রায় ২০ জন শ্রমিককে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল আরও একজনের মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, এই দুর্ঘটনার খবর পেয়েই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বসিরহাট থানার পুলিশ। উদ্ধারকাজ শুরু হয়। জেসিবি দিয়ে ভগ্ন স্তূপ সরিয়ে দেখা হয় কোনও শ্রমিক চিমনির নীচে আটকে পড়ে রয়েছে কী না। জানা গিয়েছে, আহত শ্রমিকদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলা হাসপাতালে থেকে কলকাতার আর কি কর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
বসিরহাট হাসপাতালের মর্গে যে ৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করে এনেছে পুলিশ তার মধ্যে রয়েছেন হাফিজুল মণ্ডল(৩৫) এবং রাকেশ কুমার(৪০)। হাফিজুর স্থানীয় বাসিন্দা। রাকেশের বাড়ি উত্তরপ্রদেশে। তৃতীয় জনের নাম পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
মৃত্যু দায় কার?
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাম আমল থেকেই বনগাঁ ও বসিরহাটে ইছামতি নদীর পাড় দখল করে অবৈধভাবে একের পর এক বেআইনি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এর ফলে যে শুধু নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে তা নয়, নদীর পাড় ভাঙন, অকাল বন্যা, এমনকী সবুজ গাছপালা ধ্বংসের ফলে পরিবেশের দিক থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বৃহত্তর সুন্দরবন। এই দুর্ঘটনার পর বসিরহাটের ধলতিথা গ্রামের শ্রমিকদের নিরাপত্তা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়েছে। গাফিলতিতেই কী মৃত্যু হল তাদের? এই দুর্ঘটনার দায় নেবে কে? উঠছে প্রশ্ন।





