‘আমি নির্দোষ, আমি নির্দোষ, আমি নির্দোষ, জেলের মধ্যে বসে আমাকে ফাঁসাচ্ছে’, দাবী নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত কুন্তল-ঘনিষ্ঠ শান্তনুর

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে (teacher recruitment scam) দীর্ঘক্ষণ জেরার পর অবশেষে হুগলির তৃণমূল যুব নেতা কুন্তল ঘোষ (Kuntal Ghosh)-ঘনিষ্ঠ শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Shantanu Banerjee) গ্রেফতার করেছে ইডি। আজ, শনিবার তাঁকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে (Bankshal Court) তোলা হলে তাঁকে তিনদিনের ইডি হেফাজত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শান্তনুর দাবী, তিনি নির্দোষ, তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে।

গতকাল, শুক্রবার প্রায় ৭ ঘণ্টা জেরার পর রাতের দিকে ইডি গ্রেফতার করে শান্তনুকে। রাতেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সিজিও কমপ্লেক্সে। আজ, শনিবার বেলার দিকে শান্তনুকে পেশ করা হয় ব্যাঙ্কশাল কোর্টে। আদালতে ঢোকার সময় শান্তনু জোর গলায় দাবী করেন যে তিনি নির্দোষ।

আদালতে ঢোকার মুখে শান্তনু বলেন, “আমি টাকা নিইনি। জেলের মধ্যে যারা আছে তারা ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আমি নির্দোষ। আমি নির্দোষ। আমি নির্দোষ। যা বলার কোর্টে বলব”। আদালতে দাঁড়িয়েও এই একই দাবী করেন তিনি।

শান্তনুকে ১৪ দিন হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেছিল ইডি আদালতের কাছে। তবে শান্তনুর আইনজীবী তাঁর জামিনের আর্জি জানান। অন্যদিকে, ইডি দাবী করে যে এরা সকলে শিক্ষা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। তাই এদের সকলকে হেফাজতে রাখা দরকার।

সূত্রের খবর, শান্তনুর কথাতেই কুন্তলকে ১৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। আর সেই টাকা দিয়েছিলেন মানিক ভট্টাচার্য-ঘনিষ্ঠ জেলবন্দি তাপস মণ্ডল। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে শান্তনুর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় ব্যাঙ্কশাল কোর্ট। তাঁকে তিনদিন ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৩ই মার্চ ফের শান্তনুকে আদালতে পেশ করা হবে।

ইডি আরও দাবী করেছে যে শান্তনু-কুন্তলকে টাকা দিয়ে অনেকেই চাকরি পেয়েছেন। কিন্তু তারা কারা? তাদের অনেকেই হয়ত এখন শিক্ষকতা করছেন। টাকা দিয়ে যারা চাকরি পেয়েছেন, তাদের তলব করার কথা ভাবনাচিন্তা করছে ইডি। জানা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহে হয়ত চাকরিপ্রাপ্তদের ডাকা হতে পারে।

RELATED Articles