রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) ‘ভারত জোড়ো’ যাত্রায় নেমে ঘনিষ্ঠ মহলে প্রশ্ন করেছিলেন যে তৃণমূলের (TMC) সঙ্গে জোট করলে কেমন হয়? এবার তৃণমূল সাংসদের মুখেও কংগ্রেসের (Congress) সঙ্গে ‘হাত মেলানোর’ মন্তব্য উঠে এল। ২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির (BJP) পর্যুদস্ত করতে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলানো যেতেই পারে বলেন মন্তব্য করলেন তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা (Shatrughan Sinha)। এমনকি, কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধীর প্রশংসাও করেন তিনি।
সব রাজনৈতিক দলই এখন যেন অনুভব করছে বিরোধী শক্তি এককাট্টা না হলে মোদী সরকারের একনায়কতন্ত্র আটকানো যাবে না। এই নিয়ে বিরোধী দলগুলির মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শত্রুঘ্ন সিনহা বলেন, “আজ সম্পর্ক ভালো নয় বলে আগামীকাল যে ভালো হবে না, তার কোনও মানে নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি বড় বিরোধী দলগুলি যদি একজোট হয়, তাহলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটবে। কংগ্রেসের ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ ভালো সাড়া ফেলেছে। রাহুল গান্ধীর ক্যারিশমা কাজ করতে শুরু করেছে। আমার মনে হয়, রাহুলের এই কর্মসূচিতে আগামী লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস দ্বিগুণ আসন পাবে”।
বলে রাখি, এর আগে তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’-তে বারবার কংগ্রেসের সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে দাঁড়িয়ে কংগ্রেসের পক্ষ নিয়ে তৃণমূল সাংসদের এমন মন্তব্য যে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য। নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে শত্রুঘ্ন সিনহা বলেন, “লক্ষ লক্ষ মানুষ রাহুল গান্ধীকে সমর্থন জানাচ্ছে। উনি ওঁর নেতৃত্বদানের ক্ষমতা প্রমাণ করে দিয়েছেন। রাহুল গান্ধীকে নেতা হিসাবে গ্রহণ করেছে মানুষ। যাঁরা ওঁকে ‘পাপ্পু’ বলে ঠাট্টা করেন, তাঁরা ভুল প্রমাণিত হলেন”। এবার তাহলে প্রশ্ন উঠছে যে তাহলে কী পরোক্ষভাবে কংগ্রেসকে কোনও বার্তা দেওয়া হল?
বলে রাখি, আসানসোলে শত্রুঘ্নের নামে নিখোঁজ পোস্টার পড়েছিল। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আসানসোলের মানুষ যাঁদের লাপাতা করে দিয়েছে তাঁরা দিচ্ছে লাপাতার পোস্টার। ভোটের পর হেরে যারা নিজেরাই লাপাতা হয়ে গিয়েছে তাঁরা আমাকে লাপাতা করার কথা ভাবছে। উপনির্বাচনে যাঁরা পরাজয় হজম করতে পারেননি, তাঁরাই এর নেপথ্যে রয়েছেন”।
তৃণমূল সাংসদের কথায়, “এখানকার মানুষের ছট নিয়ে ভক্তি ও উন্মাদনা দেখে মনে হচ্ছে পাটনায় চলে এসেছি। আমার মা ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত ছটের ব্রত রাখতেন। আমাদের পাটনায় পরব হয়। আমাদের বাড়িতে পরব হয়। আসানসোলে এসে মনে হচ্ছে নিজের বাড়িতে চলে এসেছি। আমি অভিভূত। আমার চোখে জল চলে এল। দুর্গাপুজোর সময় আমি আমার কেন্দ্রে ছিলাম। ছটপুজোতেও থাকছি আসানসোলে। নিয়মিত যাই এলাকায়”।





