“চেনা বামুনের পৈতে লাগে না, আপনাদের পাশে আছি। লড়াইয়ের ময়দানে দেখা হবে”, নন্দীগ্রাম সভায় বিস্ফোরক শুভেন্দু

যে স্থানকে সিঁড়ি বানিয়ে বাংলায় নতুন সরকার গড়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আজ সেই জায়গায় দাঁড়িয়েই ফের একবার একুশের মহাযুদ্ধের জন্য সংঘাতের সূচনা হয়ে গেল। সূচনা ঘটালেন রাজ্যের পরিবহন তথা সেচ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

আজ ছিল নন্দীগ্রাম দিবস। আজ সভায় উপস্থিত হয়ে শুভেন্দু কোনও নাম না নিয়ে দলীয় নেতৃত্বের একাংশকে বিঁধিয়ে বলেন যে, ১৩ বছর পর নাকি এখন শাসকদলের মনে পড়েছে নন্দীগ্রামকে। তারা ভোটে জিতে যাওয়ার পর তো আর ফিরেও তাকাবেন না এই জায়গার দিকে। তাঁর দাবীতে এই কর্মসূচী নতুন কিছু নয়, অনেক পুরনো, ১৩ বছরের কর্মসূচী।

এদিন ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ব্যানার সভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বার্তা রাখেন, “আমি নন্দীগ্রামে ২০০৩ সাল থেকে আসছি। আমি নতুন লোক নই। চেনা বামুনের পৈতে লাগে না। আমি সবসময় আপনাদের পাশে আছি”। এরপরই ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে শুভেন্দু বলেন, “ক্ষমতায় থেকে কিছু করিনি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করেছি। এই আন্দোলন আমার একার নয়, স্বতঃস্ফূর্ত লোকের আন্দোলন”।

শুভেন্দুর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই দলের অন্দরে কানাঘুষো চলছিল। যে কোনও দলীয় সমাবেশ থেকে মন্ত্রিসভা, সবই এড়িয়ে চলছিলেন তিনি। এদিন নন্দীগ্রামের সভাতে একবারের জন্যও দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নেন নি শুভেন্দু। বরং রাজনৈতিক পরিকল্পনার আভাস দিয়ে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে রাজনীতির কথা বলব। এই মঞ্চ পবিত্র মঞ্চ, এখানে রাজনীতি করি না। লড়াইয়ের মাঠে দেখা হবে”।

নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে কোন রাজনৈতিক ইঙ্গিত দিতে চাইলেন শুভেন্দু, এ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিস্তর জল্পনা। একদিকে সকালে পরিবহন মন্ত্রীর সভা, অন্যদিকে বিকেলে তৃণমূলের সভা। এসব ঘিরে রাজ্য রাজনীতি বেজায় গরম। আজকে বিকেলে নন্দীগ্রামের সভায় উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

এদিন ভরা সভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু নন্দীগ্রামে অত্যাচারের কাহিনী তুলে ধরেন। বাংলায় সুশীল সমাজের প্রসঙ্গ টেনে শুভাপ্রসন্ন, মহাশ্বেতা দেবী, অর্পিতা ঘোষ, পল্লব কীর্তনিয়াদের নামও নেন তিনি। এরপর সভার শেষে “জয় জয় নন্দীগ্রাম” ও “ভাররমাতার জয়” ধ্বনি উচ্চারিত হয় শুভেন্দুর মুখে। তাঁর এই ‘ভারতমাতার জয়” স্লোগানে ফের জল্পনা তৈরি হচ্ছে। এর মাধ্যমেই শুভেন্দু বিজেপিতে যোগদানের কোনও ইঙ্গিত দিলেন না তো?

RELATED Articles