নৃশং*সতার চূড়ান্ত! মা-সহ ৬ কুকুরছানাকে আস্তা’কুঁড়ের মধ্যেই আ’গুনে পু’ড়িয়ে মা*রার চেষ্টা, মৃ*ত্যু সারমেয়র

সারমেয়দের উপর অত্যাচারের ঘটনা নতুন নয়। অনেক সময়ই দেখা যায় কুকুরছানাদের বিষ খাইয়ে মেরে ফেলা হয়েছে বা মারার চেষ্টা করা হয়েছে। অবলা জীবদের উপর এই অত্যাচার বন্ধ হচ্ছে না বারবার সতর্কতার পরও। নিরীহ জীবদের উপর নির্যাতন করে মানুষ নিজেকে কতটা নিকৃষ্ট প্রজাতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে, তা হয়ত সে নিজেও জানে না। এবার ফের ঘটল সারমেয়দের উপর নির্যাতনের ঘটনা। এবার আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হল তাদের।  

ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরে। সেখানকার তিলক রোডের ৩০ নং স্ট্রিটের একটি গ্যারাজের পাশে ডাস্টবিনে সদ্যই একটি কুকুর ৬ শাবকের জন্ম দিয়েছিল। ওই ডাস্টবিনেই একটু একটু করে বেড়ে উঠছিল ৬ শাবক। এলাকাবাসীরা কেউ কেউ তাদের খাবার দিয়ে আসতেন। বেশ ভালোবাসতেন অনেক স্থানীয়রাই। কিন্তু গতকাল, শুক্রবার ঘটে যায় এক বিপত্তি।

জানা গিয়েছে, এদিন রাতে আচমকাই এক মহিলা দেখেন ওই ডাস্টবিন থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। প্রতিবেশীদের ডেকে ডাস্টবিনের সামনে যেতেই যেন চক্ষু ছানাবড়া হয়ে জাউ সকলের। দেখা যায়, মা-সহ ৬ কুকুরছানার গায়ে আগুন লেগেছে। প্রাণ বাঁচাতে চিৎকার করছে তারা। কোনওরকমে আগুন নিভিয়ে শাবক ও মা কুকুরকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু এক সারমেয়র মৃত্যু হয়। বাসিন্দারা বাকি শাবকদের চিকিৎসা শুরু করেন বলে জানা যায়। বাকি শাবকদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অজ্ঞাতপরিচয়ের দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে পুলিশের কাছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “রাতে হঠাৎ দেখি, ডাস্টবিনের ভিতর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে দেখে আমরা সেখানে যাই। দেখি, ছটি পথ সারমেয় শাবক-সহ তাদের মা আগুনে জ্বলছে! সেখানে বই, খাতা দিয়ে আগুন জ্বালানো হয়েছে। গন্ধ যাতে না ছড়ায় সেই জন্য নুনের প্যাকেটও রাখা হয়েছিল। এই নির্মম ঘটনা দেখে আমরা হতবাক। আমরা ছটি সারমেয় শাবককেই উদ্ধার করি। একটি সারমেয়র মৃত্যু হয়েছে। পাঁচটি শাবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সেগুলিকে এলাকাতেই চিকিৎসা করা হচ্ছে। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের কঠোর শাস্তির দাবী করছি”।

আরও পড়ুনঃ ‘পেট্রাপোল সীমান্তে ভারতীয় মু’সলিমরা মে’রে ফেলতে চেয়েছিল আমাকে’, প্রমাণ দেখিয়ে বিস্ফো*রক দাবী বিশিষ্ট ইউটিউবারের

দুর্গাপুর থানায় অভিযোগ জানিয়েছে পশুপ্রেমী সংগঠন। ওই সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, “সদ্যোজাত পথ সারমেয়দের উপর এই নির্মম ঘটনা একেবারে মেনে নেওয়া যায় না। আমরা খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে গিয়েছি। যারা এই ঘটনার সাথে যুক্ত তাদের কঠোর শাস্তির দাবী করছি”।

RELATED Articles