কিছুদিন আগেই খবর পাওয়া যায় বউবাজারের ফুটপাত থেকে সোহেল নামের একটি তিন বছরের বাচ্চা নিখোঁজ। রাতে ফুটপাতবাসী মায়ের কাছে ঘুমোচ্ছিল বাচ্চাটি। মাঝরাতে কেউ বা কারা বাচ্চাটিকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থানায় অভিযোগ করা হলে ঘটনার তদন্ত চালায় পুলিশ।
রাস্তার সিসিটিভি খতিয়ে দেখা যায় যে একটি গাড়ি করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় শিশুটিকে। এই ঘটনার তদন্ত করতে করতেই অনেক তথ্য হাতে আসে পুলিশের। প্রথমেই ওই গাড়ির মালিককে খুঁজে বের করা হয়। কিন্তু জানা যায় গাড়ির যে আসল মালিক, তিনি অন্য আরেকজনের কাছে গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। এরপর এক এক করে সূত্র ভেদ করার পর অবশেষে ঝাড়খণ্ড থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় এক ব্যক্তিকে। শিশুটিকে পাচার করার জন্যই তাকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
এ তো গেল একটি ঘটনা। এরকম কত ঘটনা প্রতিদিন ঘটে চলেছে শহরের বুকে তার ইয়ত্তা নেই। কত বাচ্চা রোজ অপহৃত হচ্ছে, কিছু ঘটনার পুলিশকে জানানো হয়, কিছু হয় না। কিছুদিন আগেও মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রক একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল, যাতে রাজ্যবাসীর রীতিমতো শিউড়ে ওঠারই কথা। এরপর ফের একবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি লোকসভায় ফের একটি রিপোর্ট জমা দিয়ে জানিয়েছেন যে টানা তিন বছর ধরে শিশু পাচারের দিক দিয়ে দেশের মধ্যে প্রথমেই নাম রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের। ২০১৬, ২০১৭, ও ২০১৮ সালের নিরিখে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেন স্মৃতি।
রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ২০১৬ সালে এই রাজ্য থেকে প্রায় ১৬,৮৮১টি শিশু নিখোঁজ হয়েছে। ২০১৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯,৬৭১-তে। ২০১৮ সালে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে শিশু নিখোঁজের সংখ্যা ১৬,০২৭। এর আগে ন্যাশানাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো থেকেও এই একই রিপোর্ট জমা পড়েছিল। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো (UNESCO)-এর তরফ থেকে ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের জন্য পুরস্কৃত হয় রাজ্য। আর সেই বছরই শিশু নিখোঁজের এই ঘটনা সামনে আসে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক।





“রাজনীতিতে তারকার খ্যাতি নয়, আদর্শ থাকা জরুরি!” “প্রত্যেককে নিরাপত্তা দেবে এমন একজনই হোক মুখ্যমন্ত্রী!” রাজনীতিতে তারকাদের ভূমিকা ও নির্বাচনে আদর্শহীন প্রার্থীদের নিয়ে অকপট লগ্নজিতা চক্রবর্তী!