রাস্তার পাশে দাঁড়ানো বাইকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা, মত্ত অবস্থায় দাদাগিরি প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্রের জামাইয়ের, মহিলাদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ

মত্ত অবস্থায় প্রকাশ্য রাস্তায় দাদাগিরি করতে দেখা গেল মানিকচকের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্রের জামাই সোমদীপ সরকারকে। কয়েকজন যুবক-যুবতীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, এমনকি তাদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ উঠেছে সোমদীপের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

এই ভিডিওটি করেছেন এক তরুণী। ওই তরুণীর কথায়, মালদহের গাজোলে পরদেশি ধাবা নামের রেস্তোরাঁর সামনে তাদের কয়েকটি বাইক রাখা ছিল। কিন্তু অভিযোগ, মানিকচকের বিধায়ক সাবিত্রী মিত্রের জামাই সোমদীপ সরকার নিজের গাড়ি নিয়ে এসে ধাক্কা দেন বাইকগুলিতে। এর জেরে একটি বাইক বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই নিয়ে অভিযোগ করতে গেলে ওই যুবক-যুবতীর দিকে তেড়ে আসেন সোমদীপ সরকার। তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন তিনি। হুমকিও দেন, এমনকি তাদের গায়ে হাতও তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। যিনি এই ভিডিও করছিলেন, তাঁর দাবী, সোমদীপ সরকার মত্ত অবস্থায় ছিলেন। আর সেভাবেই তাঁর গায়েও হাত দিয়ে টানাহিঁচড়া করেছেন তিনি।

ওই তরুণীকে মন্ত্রীর জামাই ও তার বন্ধুবান্ধবকে ভিডিও বন্ধ করার কথা বলেন বটে, কিন্তু তরুণী তা চালিয়ে যান। তিনি এও জানান যে তাঁর ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে তিনি ভিডিও করছেন বলে। তরুণী এও বলেন যে তারা যতক্ষণ না পর্যন্ত সুস্থভাবে বাড়ি পৌঁছচ্ছেন, তিনি ভিডিও বন্ধ করবেন না।

এই ভিডিও দেখে প্রাক্তন মন্ত্রীর জামাইয়ের তীব্র নিন্দা করেছেন নেটিজেনরা। সকলের মতেই তিনি নিজের ভুল স্বীকার করার বদলে নিজের ক্ষমতা দেখানোর চেষ্টা করছেন। হুমকি দিচ্ছেন রাজনৈতিক ক্ষমতার জেরে। এই ভিডিও পোস্ট হতেই বেশ ভাইরাল হয়েছে।

তবে প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্রের জামাইয়ের এই দাদাগিরি ফলানোর ঘটনা এই প্রথম নয়। ২০১৪ সালে নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের কর্মী-অফিসারদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল সোমদীপ সরকার-সহ সাতজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।

দক্ষিণ মালদহের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেনের সমর্থনে মানিকচকের খয়েরতলায় তৃণমূল তিনশোর বেশি বাইক নিয়ে র্যালি করছিল। নির্বাচন কমিশনের কর্মী-অফিসারেরা বাইক র্যালির ছবি তুলতে গেলে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা তাদের মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছিল।

প্রহৃত মানিকচক ব্লকের এমসিসি ও ভিডিও সার্ভিলেন্স দলের ওসি-সহ আটজন লিখিতভাবে বিডিওর কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন যে মন্ত্রীর জামাই সোমদীপ সরকার, তৃণমূল যুব কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি মুকলেশ্বর রহমান, জামাল খান, মতিউর রগমানের নেতৃত্বের মারধর করা হয়েছে। এই ঘটনায় পরে জামিন পেয়ে যান সোমদীপ সরকার।

RELATED Articles