হাতের ‘লক্ষ্মী’ পায়ে ঠেলা উচিত নয়, ওঁকে ফিরিয়ে আনা দরকার: সৌগত রায়

২১শে তৃণমূলের লক্ষ্মী লাভের আগেই দল ছাড়লেন লক্ষ্মী! আর তাঁর এই হঠাৎ সিদ্ধান্তে বেকায়দায় শাসক শিবির। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শুভেন্দুর পর ফের একজন হেভিওয়েট নেতা তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করলেন।

একই সঙ্গে ছাড়লেন হাওড়ার জেলা সভাপতির পদও। লক্ষ্মী রতন শুক্লার এই ইস্তফা তৃণমূল শিবিরের কাছে নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা বলে মেনে নিচ্ছেন ঘাসফুল শিবিরের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়। তিনি বলেন, লক্ষ্মীর ইস্তফা অবশ্যই দুঃখজনক ঘটনা।

শুভেন্দু কে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ সৌগত লক্ষ্মী বিদায়ে বললেন, “ও ভাল মন্ত্রী, সবাই ওঁকে পছন্দ করত। ওঁকে ফিরিয়ে আনা দরকার। আমি আবেদন করব লক্ষ্মী পদত্যাগপত্র তুলে নিন।” তিনি আরও বলেন,” দলের তোমাকে প্রয়োজন। দল ছেড়ো না।”

তবে লক্ষ্মীরতন শুক্লার দল ত্যাগকে পজিটিভ ভাবে দেখছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, লক্ষ্মীর ইস্তফার পিছনে নেগেটিভ কিছু নেই। খেলার জন্যেই মন্ত্রিত্ব ছেড়েছে ও! খেলার জগতে আবার পা রাখার জন্যে শুভেচ্ছাবার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

অন্যদিকে, তৃণমূলের কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, কেন‌ও ঠিক বিধানসভা নির্বাচনের আগে লক্ষ্মীরতন এইভাবে দল ছাড়লেন তাঁরা জানেন না। তৃণমূল তাঁকে বিধায়ক পদ দিয়েছে, মর্যাদা দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেষ্টা করেছেন, শুধু রাজনীতি নয়, অন্যান্য পেশার মানুষকেও নিয়ে এসে দায়িত্ব দিতে। তাঁরা যথেষ্ট ভাল কাজ করছেন। বিজেপির দেউলিয়া দশা, তাই তারা অন্য দলের দিকে এভাবে নজর দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও লক্ষ্মীরতন শুক্লাকে নিয়ে জল্পনা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। এরই মধ্যে দলের বিপক্ষে মুখ খুলেছিলেন রাজীব। কিন্তু লক্ষ্মীরতন এর মন্ত্রিত্ব ত্যাগ যেনও বিনা মেঘে বজ্রপাত।
২০২১ -এর শুরুতেই তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীর অনুপস্থিতি নিয়ে শোরগোল পড়েছিল। পয়লা জানুয়ারি হাওড়ার কদমতলার জেলা সদর দফতরে আয়োজন করা হয়েছিল দলের প্রতিষ্ঠা দিবসের মূল অনুষ্ঠান। সেখানে রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায় উপস্থিত থাকলেও গরহাজির ছিলেন লক্ষীরতন শুক্লা। ছিলেন না বনমন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায়ও।

তবে মন্ত্রী অরূপ রায় আবার দাবি করেছেন, লক্ষ্মীরতন পদত্যাগ করেছেন বলেই তিনি জানেন না। ঠিক ভোটের আগে জেলা সভাপতির পদ ছেড়ে চলে যাওয়ার অর্থ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সেনাপতির চলে যাওয়ার মত বলে মনে করেছেন তিনি।

লক্ষ্মীরতনের সঙ্গে তাঁর মনমালিন্য রয়েছে বলে যে অভিযোগ রয়েছে তাও সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন অরূপ। তাঁর বক্তব্য, সম্পর্কে লক্ষ্মীরতন তাঁর ছোট ভাইয়ের মত, দুজনের অত্যন্ত সুসম্পর্ক রয়েছে। তবে লক্ষ্মী নাকি আগেও তাঁকে বলেছেন, রাজনীতির জন্য তিনি নিজের খেলাধুলোর জগতে নজর দিতে পারছেন না।

তবে লক্ষ্মীর তৃণমূল ত্যাগকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধী বিজেপি। জোর করে যাঁদের আটকে রাখা হয়েছিল তাঁরা দল ছাড়তে শুরু করেছে এবার! বলে মন্তব্য করেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

RELATED Articles