জল্পনাই যেন সত্যি হল। সকালেই দেখা গিয়েছিল নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় মুছে দিয়েছেন তিনি। এবার বেলা বাড়তেই সামনে এল আরও এক ঘটনা। তৃণমূলের জোড়া পদই ছেড়ে দিলেন কুণাল ঘোষ। এই খবর সামনে আসতেই বঙ্গ রাজনীতিতে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে।
কোন কোন পদ ছাড়লেন কুণাল?
তৃণমূল মুখপাত্র ও তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক, এই দুই পদে ছিলেন কুণাল ঘোষ। সূত্রের খবর, এই দুই পদই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। সকালেই তাঁর এক্স হ্যান্ডেলের বায়োতে দেখা গিয়েছিল সেখান থেকে তৃণমূলের পরিচয় মুছে দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর বায়োতে তাঁর পরিচয় ছিল ‘সাংবাদিক’ ও ‘সমাজকর্মী’ হিসেবে। এরপর থেকেই তাঁর পদ ছাড়া নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। অবশেষে সত্যি হল সেই জল্পনা।
এক্স হ্যান্ডেলে বিস্ফোরক পোস্ট কুণালের
গতকাল, বৃহস্পতিবার রাতে এক্স হ্যান্ডেলে এক বিস্ফোরক পোস্ট দেন কুণাল ঘোষ। লেখেন, “নেতা অযোগ্য, গ্রুপবাজ, স্বার্থপর। সারাবছর ছ্যাঁচড়ামি করবে আর ভোটের মুখে দিদি, অভিষেক, দলের প্রতি কর্মীদের আবেগের উপর ভর করে জিতে যাবে, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি করবে, সেটা বারবার হতে পারে না”।
তাঁর এই পোস্ট নিয়ে জোরালো চর্চা শুরু হয়। তিনি কাকে উদ্দেশ্য করে এই পোস্ট করেছেন, তা অবশ্য তিনি উল্লেখ করেন নি। তবে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় ঢের। আর এমন আবহে এবার তৃণমূলের পদ ছাড়ার খবর সামনে এল। দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে তিনি নিজের পদ ছাড়ার খবর জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
শুধুমাত্র তৃণমূলের পদই নয়, রাজ্যের দেওয়া নিরাপত্তাও ছেড়েছেন কুণাল। রাজ্যের তরফে তাঁকে যে নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হয়েছিল, তাদের তিনি নিষেধ করে দিয়েছেন আসতে, এমনটাই খবর। কিন্তু হঠাৎ কেন তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন, সে বিষয়ে খোলসা করে কিছুই জানান নি তৃণমূল নেতা।
তবে জানা গিয়েছে, উত্তর কলকাতার এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। জানা যাচ্ছে, কুণালের সঙ্গে সেই নেতার তিক্ততা বেশ বেড়েছে। গতকাল, বৃহস্পতিবারই ওই নেতা উত্তর কলকাতায় একটি সভা করেন। সেখানে যদিও কুণাল উপস্থিত ছিলেন। আর নিজের পোস্টেও কারোর নাম উল্লেখ করেন নি তিনি। সেই কারণে ঠিক কাকে এমন তোপ দাগলেন তিনি, তা নিয়ে জল্পনা জিইয়েই রেখেছিলেন তিনি।





