অর্পিতা মুখোপাধ্যায় ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়ে চর্চার অন্ত নেই। পার্থর আইনজীবী দাবী করেছিলেন যে পার্থ ও অর্পিতার মধ্যেকার সম্পর্ক নাকি কাকা-ভাইঝির। এবার ‘অপা’র সম্পর্কের রসায়ন ভরা এজলাসে তুলে ধরলেন ইডির আইনজীবী। ইডির দাবী, পার্থ ও অর্পিতার মধ্যেকার সম্পর্ক এমনই ছিল যে অর্পিতার সন্তানের দায়িত্বও নিতে চেয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
গত ২০২২ সালের জুলাই মাস থেকে নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে জেলবন্দি শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের দুটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৫০ কোটি টাকা। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিনের আবেদন জানান তাঁর আইনজীবী। সেই মামলার শুনানিতেই উঠে আসে পার্থ ও অর্পিতার সম্পর্কের রসায়নের কথা। পার্থর আইনজীবীর দাবী, অর্পিতার বাড়ি থেকেই সব টাকা উদ্ধার হয়েছে। এর সঙ্গে পার্থর কোনও সম্পর্ক নেই।
অন্যদিকে এদিন এই মামলার শুনানিতে ইডির আইনজীবী পার্থ ও অর্পিতার সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা সামনে আনেন। আদালতে বেশ কিছু নথি পেশ করে ইডি। তাতে স্পষ্ট জানা যায়, অর্পিতা সন্তান দত্তক নিতে চেয়েছিলেন। আর সেখানে নমিনি করা হয়েছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। অর্পিতার সন্তানের সব দায়িত্ব নেবেন পার্ট চট্টোপাধ্যায়, এমনটাই বলা হয় সেখানে।
এদিন আদালতে ইডির আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি জানান, “শিশু দত্তক নেওয়ার জন্য অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে ছাড়পত্র দিয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন যে অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের কিছু হলে শিশুটির দায়িত্ব তিনি নেবেন। সেটা ছেলেই হোক আর মেয়েই হোক”।
ইডির দাবী, সম্পর্ক যদি ঘনিষ্ঠ না-ই হবে, তাহলে কেন অর্পিতার সন্তানের দায়িত্ব নিতে চাইবেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়? ইডির দাবী, অর্পিতার বাড়িতে উদ্ধার হওয়া টাকার মালিক আসলে পার্থই। ইডির আইনজীবীর কথায়, “স্বাধীন ভারতে এমন কোনও ঘটনা দেখা যায়নি, যেখানে ৫৪ কোটিরও বেশি টাকার মালিকানা ছাড়তে দুজনে মারামারি করছেন। দুজনেরই বক্তব্য, এই টাকা তাঁদের নয়”।
ইডির আইনজীবীর স্পষ্ট বক্তব্য, অর্পিতার ফ্ল্যাটে উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস কী, তা ভালোভাবেই জানেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আর অর্পিতাও তা জানেন। সেই কারণে দুজনের কারোরই জামিন পাওয়া উচিত ব্য। এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে আগামী ৬ মার্চ।





