আজ তারাপীঠের মা তারার আবির্ভাব দিবস, দিনভর চলছে বিশেষ পুজো, ভক্তের সমাগম মন্দির চত্বরে, কী মাহাত্ম্য এই দিনের, জেনে নিন

আজ আশ্বিন মাসের শুক্লা চতুর্থী। এদিন তারাপীঠে তারা মায়ের আবির্ভাব দিবস,। এদিন গর্ভগৃহ থেকে বিরাম মঞ্চে আনা হয় মা তারাকে। দিনভর চলে বিশেষ পুজো। সকাল থেকেই এদিন ভক্তদের সমাগম মন্দির চত্বরে। কোনও ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তাই সতর্ক রয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ, পুলিশ-প্রশাসন।

কথিত রয়েছে যে তারা মায়ের বোন হলেন মৌলাক্ষাদেবী মা। ঝাড়খণ্ডের মলুটিতে অধিষ্ঠান তাঁর। এই চতুর্দশীতেই মুখোমুখি বসে কথা বলে দুই বোন। যেহেতু মৌলাক্ষাদেবী পশ্চিমমুখী, তাই মা তারাকেও  বছরের এই একটি দিন পশ্চিম মুখ অর্থাৎ শ্মশানের দিকে মুখ করে বসানো হয়।

কথিত রয়েছে যে পাল রাজত্বের সময় জয় দত্ত সওদাগর স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। আশ্বিন মাসের শুক্লা চতুর্দশীতেই শ্মশান থেকে তারা মায়ের মূর্তি এনে মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই সময় থেকেই প্রতিবছর এই সময় বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়ে থাকে। তারা নামটিও এই সময় থেকেই প্রচারের আলোয় এসেছিল।

এই বিশেষ দিনটিতে দিনভর উপোস থাকেন মা তারা। অন্নভোগ হয় না এদিন। সেই কারণে মন্দিরের সেবায়েতরাও অন্নগ্রহণ করেন না। তবে দুপুরেই শুরু হয়ে যায় রাতের ভোগের প্রস্তুতি।

এদিন ভোর তিনটের সময় মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে তারা মাকে আনা হয় বিরাম মঞ্চে। এরপর হয় স্নানপর্ব। তারপর মা তারাকে সাজানো হয় রাজ-রাজেশ্বরী বেশে। শুরু হয় মঙ্গল আরতি। এদিন গোটা দিন ফল-মিষ্টিই খেয়ে থাকে মা। সন্ধ্যারতি শেষে গর্ভগৃহে নিয়ে যাওয়া হয় তারা মাকে।

এরপর স্নান করিয়ে ফের নতুন সাজে সেজে ওঠেন মা। রাতে মহাভোগ নিবেদন করা হয় মা তারাকে। মায়ের কাছে অন্নভোগ নিবেদন করার পরই নিজেদের উপবাস ভাঙেন সেবায়তরা। শক্তির আরাধনার জন্য এদিন দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তদের সমাগম হয় তারাপীঠের মন্দিরে। মন্দির চত্বরে এদিন বেশ আঁটসাঁট নিরাপত্তা রয়েছে।

RELATED Articles