রবিবারের ব্রিগেডে ঘটেছে এক নজিরবিহীন ঘটনা। এই প্রথম বঙ্গ রাজনীতিতে ব্রিগেডের সভা থেকে কোনও রাজনৈতিক দল নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। এদিন লোকসভা নির্বাচনের জন্য ৪২টি আসনেই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে তৃণমূল। তবে এই তালিকায় ঠাঁই হয়নি অর্জুন সিংয়ের। ফলে ফের তাঁর দলবদলের জল্পনা তৈরি হয়েছে।
শেষ মুহূর্তে এসে টিকিট দেওয়া হয়নি অর্জুন সিংকে, এমনটাই দাবী করেন তৃণমূল নেতা। ক্ষোভের সুরে তিনি বলেন, “দল বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে”। এরপরই ফের অর্জুনকে নিয়ে তৈরি হয়েছে নানান জল্পনা। তিনি কী ফের দলবদল করবেন, এমনটাই প্রশ্ন এখন বঙ্গ রাজনীতির অন্দরে।
জল্পনা জোরালো শুভেন্দুর মন্তব্যে
তৃণমূলের এই ব্রিগেডের সভার দিনই সন্দেশখালিতে সভা করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই সভা থেকে অর্জুন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তৃণমূল অর্জুনকে বিশ্বাস করে না। আমাদের অনেকের সঙ্গে ওঁর যোগাযোগ রয়েছে। আমার সঙ্গেও রয়েছে”। তিনি এও জানান, দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন অর্জুন। শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পর এবার রাজনৈতিক মহলে আরও জোরালো জল্পনা শুরু হয়েছে যে অর্জুন হয়ত ফের পদ্ম শিবিরেই ভিড়বেন।
টিকিট না পাওয়া নিয়ে কী বললেন অর্জুন?
অর্জুনকে প্রার্থী না করা নিয়ে জল্পনা বেশ কিছুদিন আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল তৃণমূলে। আর সেই জল্পনাই সত্যি হয় রবিবাসরীয় দুপুরে। দল প্রার্থী না করা নিয়ে অর্জুন বলেন, ““আমি বলেছিলাম ব্যারাকপুরেই লড়ব। ব্যারাকপুরের বাইরে লড়ব না। টালবাহানা করে শেষ পর্যন্ত টিকিট দেওয়া হল না। এতে আমার কোনও দুঃখ নেই। একটাই দুঃখ দল আগে যদি বলে দিত আমাকে দেবে না, তাহলেও ভাল ছিল। এটা বিশ্বাসভঙ্গ ছাড়া আর কী”!
অর্জুনের কথায়, রবিবার শেষ মুহূর্তে তাঁকে জানানো হয়েছে যে তাঁকে প্রার্থী করা হচ্ছে না। আর তাতেই তিনি বেশি আঘাত পেয়েছেন বলে দাবী অর্জুনের। বিগত কয়েকদিন ধরেই ব্যারাকপুর থেকে হাতে অর্জুনকে প্রার্থী না করা হয়, সেই নিয়ে নানান জল্পনা চলছিল।
জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম সাধারণ মানুষের থেকে সই সংগ্রহ করেন যাতে অর্জুনকে প্রার্থী না করা হয়। সেই সই সহ চিঠি পাঠানো হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। এরপরই দেখা যায় ব্যারাকপুর থেকে পার্থ ভৌমিককে প্রার্থী করে তৃণমূল। এরপরই সকলের মনে প্রশ্ন ওঠে যে এবার কী ফের পদ্ম শিবিরের শরণাপন্ন হবেন অর্জুন! আর এবার শুভেন্দুর মন্তব্যে যেন সেই জল্পনার আঁচেই ঘি পড়ল!





