করোনার জেরে মানুষের জীবন-জীবিকা দুটি সমানভাবে বিধ্বস্ত। কর্মসংস্থানের সব কিছু বন্ধ থাকায় দিনমজুরদের এখন দিন গুজারণে সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এই সমস্যা দূর করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি বিনামূল্যে রেশন দোকান থেকে খাদ্যবণ্টনের ব্যবস্থা করে। কিন্তু এই সংকটময় পরিস্হিতিতে কেন্দ্রের তরফ থেকে যথেষ্ট মুসুর ডাল না পাঠানোর অভিযোগ উঠল রাজ্যের তরফে। যথারীতি কেন্দ্রের তরফ থেকে মুসুর ডাল না আসায় রেশন থেকেও মুসুর ডাল দেওয়া যাচ্ছে না। অন্য সব রাজ্যে পরিমাণমতো ডাল পাঠানো হলেও, এ রাজ্যে নামমাত্র মুসুর ডাল আসছে কেন্দ্রের তরফে। অভিযোগ, মুসুর ডাল বণ্টনের ক্ষেত্রে বৈষম্য করছে কেন্দ্র।
প্রসঙ্গত, লকডাউনের শুরুতে কেন্দ্র ঘোষণা করে রাষ্ট্র খাদ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী এপ্রিল মাস থেকেই প্রতিটি রেশন দোকানে বিনামূল্যে মুসুর ডাল মিলবে। প্রতিটি কার্ড পিছু ১ কেজি করে মুসুর ডাল দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। সেক্ষেত্রে হিসেব করলে রাজ্যের প্রয়োজন ১৪,৫৩০ মেট্রিক টন ডাল। সেখানে কেন্দ্র পাঠিয়েছে মাত্র ১৮০০ মেট্রিক টন মুসুর ডাল। ফলে কেন্দ্রের ডাল রেশনে মিলছে না।
অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু বলেন, “মানুষ আমাদের প্রশ্ন করছেন কেন্দ্রের তরফে মুসুর ডাল কোথায়?” তাঁর অভিযোগ, “মুসুর ডাল অন্য রাজ্যে যথেষ্ট পাঠানো হয়েছে কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রেই কেন বণ্টনে সমস্যা করা হচ্ছে? মুসুর ডাল প্রোটিনের অন্যতম উৎস, ফলে রেশনে মুসুর ডাল না পেলে অগণিত মানুষ প্রোটিনের সমস্যায় পড়বেন।”
এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রের সরকারকে নিশানা করেছেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তাঁর কথা রাখতে পারেননি। এই সময় মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল। তা না করে বিজেপি নোংরা রাজনীতি করছে। রাজ্যের মুসুর ডালের মাসিক চাহিদা ১৪,৪৫০ মেট্রিক টন। সেখানে ন্যাফেড এনেছে ৪,২২৯ মেট্রিক টন।” কেন্দ্রের এ হেন মনোভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন সকলেই। খাদ্য নিয়েও আজকাল রাজনীতি চলছে। করোনা দুর্যোগেও মানুষের প্রানের দামের থেকে রাজনীতিই আজকাল বড়ো হয়ে দাঁড়িয়েছে।





