স্কুল রয়েছে কিন্তু স্কুলে জলের কলই নেই। নেই বললে ভুল হবে, যে কলটি রয়েছে, তা দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়েই পড়ে রয়েছে। ফলে স্কুলে পানীয় জলের কোনও ব্যবস্থা নেই। এভাবেই চলছে বছরের পর বছর ধরে। স্কুলে গিয়ে জল পায় না বাচ্চারা। খাবার খেতে গিয়ে খাবার আটকে যায় গলায়। প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন এবার অভিভাবকরা।
কোথায় ঘটেছে এমন ঘটনা?
ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানের জামালপুরের আঝাপুর এটখোলা পাড়া শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে। সেখানেই দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে পানীয় জলের কল। এক ফোঁটাও জল বের হয় না কল থেকে। ফলে স্কুলে এসে জলই পায় না শিশুরা। খাবার খেতে গেলে আটকে যায় গলায়। বৃহস্পতিবারও ঘটে এমন ঘটনা। খাবার খাওয়ার সময় এক পড়ুয়ার গলায় খাবার আটকে গিয়ে ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা।
স্কুলের পানীয় জলের কল মেরামতের জন্য পঞ্চায়েত অফিস অভিযান করেন তারা। এদিন দুপুরে স্কুল ইউনিফর্ম পরেই জামালপুরের আঝাপুর পঞ্চায়েত অফিসে হাজির হয় পড়ুয়ারা। তাদের গলায় ঝোলানো ছিল প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা, দীর্ঘ চার বছর ধরে তাদের স্কুলে পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই।
স্কুলে জলের সমস্যার কথা মেনে নিয়েছেন এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য শশাঙ্ক ভূমিজও। তাঁর অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে কল খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। পঞ্চায়েতের কাছে এই কলের জন্য ১১ বার দরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।
শশাঙ্ক ভূমিজ জানান, তিনি নিজে সদস্য হওয়ার পর ২ বার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “খাবার সময় বাচ্চারা হাতের কাছে জল পায় না। কোথায় যাবে বাচ্চারা? আজ যদি বাচ্চাগুলির কিছু হয়ে যায়”।
এই বিষয়টি জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহারও শুনেছেন। কল খারাপের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। আশ্বস্ত করে বলেছেন, “হয়ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মেরামতির কাজে কিছুটা দেরি করে ফেলেছে। আগামিকাল থেকে আমার সেখানে কল মেরামতের কাজ শুরু করছি”।





