গরমের দাপটে হাঁসফাঁস করছিল রাজ্যবাসী। ফাল্গুন মাস পড়লেও চৈত্রের রোদ যেন আগেভাগেই এসে হাজির! দুপুরের দিকে রাস্তায় বেরোলে রীতিমতো ঘাম ঝরছে, রাতেও ফ্যান কিংবা এয়ার কন্ডিশনার চালিয়েও যেন আরাম মিলছিল না। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎই বদলে গেল আবহাওয়া। বিকেলের পর থেকেই আকাশ ঢাকল মেঘে, দেখা মিলল দমকা হাওয়ার। শহর কলকাতা থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করল। এরপর নামে প্রবল বৃষ্টি। মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল পরিবেশের চেহারা।
এ যেন একেবারে স্বস্তির বার্তা! দিনের তাপমাত্রা যেখানে ছিল ৩৫ ডিগ্রির কাছাকাছি, রাতারাতি তা কমে গেল কয়েক ডিগ্রি। ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টির ছোঁয়ায় উধাও হয়ে গেল গরমের দাপট। বেশ কিছু জায়গায় এমনকী বজ্রবিদ্যুৎ-সহ শিলাবৃষ্টিও হয়েছে। সন্ধ্যা নামতেই মনে হতে লাগল যেন ফিরে এসেছে পৌষ-মাঘের হালকা শীতল স্পর্শ। বাতাসে ঠান্ডার আমেজ, গায়ে হালকা চাদর কিংবা ফুলহাতা পোশাক চাপানোর মতো পরিবেশ! অনেকেই বলছেন, “এ এক অন্যরকম আনন্দ!”
তবে হঠাৎ কেন এমন আবহাওয়ার পরিবর্তন? আবহাওয়াবিদদের মতে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবেই এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া তৈরি হয়েছে। রাজস্থান-পাঞ্জাব হয়ে এই ঝঞ্ঝা পূর্ব দিকে সরছে, যার জেরেই উত্তর-পশ্চিম থেকে ঠান্ডা হাওয়া প্রবেশ করছে বাংলার বুকে। সঙ্গে রয়েছে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প। এর ফলেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও তাপমাত্রার পতন। এই পরিবর্তন শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় অনুভূত হচ্ছে।
এই বৃষ্টি কি স্থায়ী? উত্তরের অপেক্ষায় অনেকেই। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। তবে তার পর ধীরে ধীরে আবহাওয়া স্বাভাবিক হবে। কিন্তু আশার কথা, পারদ খুব একটা বাড়বে না। অর্থাৎ, গরম এখনই আগের মতো ফিরছে না। আরও কয়েকদিন এই শীতল আবহাওয়া বজায় থাকবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ত্রিগ্রহী যোগের প্রভাব! সূর্যগ্রহণে কাদের জীবনে আসছে বিপুল পরিবর্তন?
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে সাময়িক মুক্তি মিললেও মার্চের মাঝামাঝি থেকেই পারদ আবার ঊর্ধ্বমুখী হবে। তবে এখনই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এপ্রিলের আগে তীব্র দাবদাহের সম্ভাবনা কম। ফলে আপাতত ঠান্ডা-গরমের এই দোলাচলই থাকবে। তাই বৃষ্টির পর যে শীতের স্বস্তি মিলেছে, তা উপভোগ করাই ভালো!





