বালিগঞ্জ ও আসানসোল, দুই উপনির্বাচন কেন্দ্রেই ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির। বালিগঞ্জে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে বামেরা। বিজেপি সেখানে নেমে গিয়েছে চতুর্থ স্থানে। যেখানে বিজেপির পাওয়ার কথা ছিল ১৬ হাজারের বেশি ভোট, সেখানে তারা পেয়েছে ১৩ হাজার ১৭৪টি ভোট।
তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার অবশ্য দাবী করেছেন যে বালিগঞ্জে তারা কোনও প্রতিযোগিতায় ছিলেনই না। এই কেন্দ্রে সংখ্যালঘু সমীকরণই তৃণমূল ও বামেদের উপরে তুলেছে বলে দাবী তাঁর। তাছাড়া, আসানসোল কেন্দ্র নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই তিনি জানিয়েছেন যে এবারে হেরে গেলেও ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে সেই কেন্দ্র থেকে জিতবে বিজেপিই আর তা তিনি স্ট্যাম্প পেপারে একেবারে লিখে দিতে পারেন।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, “বালিগঞ্জে আমরা কোনও প্রতিযোগিতাতেই নেই। ওখানে শতাংশের উপরী সংখ্যালঘু ভোটার। স্বভাবতই সেখানে আমাদের প্রতিযোগিতায় থাকার কথা নয়। যাদের লড়ার তারা লড়েছে। তবে সংখ্যালঘু ভোটও তৃনমুলের থেকে ধীরে ধীরে কমছে। আগামীদিনে তা আরও কমবে বলে মন হয়”।
সুকান্তের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, “এই করে করে তো বিজেপি শেষ হয়ে যাচ্ছে। হিন্দু ভোট, মুসলমান ভোট নয়। আমরা ৩০ শতাংশ, ৭০ শতাংশের দল নই। আমরা ১০০ শতাংশ মানুষকে আবেদন করেছি, যারা গরম উপেক্ষা করে ভোট দিয়েছেন, তারা আমাদের ভোট দিয়েছেন”।
এর থেকেই স্পষ্ট প্রশ্ন ওঠে যে বিজেপি মুখে যতই সংখ্যালঘু ভোটের তত্ত্ব দিক না কেন বা উপনির্বাচনকে হালকা করে নিক না কেন, দিনের শেষে কিন্তু তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতাই প্রকাশ পাচ্ছে।
এই সুকান্ত মজুমদারের মন্তব্য, “সাংগঠনিক ব্যর্থতা গালভরা শব্দ। এগুলো কোনও কাজে লাগে না। ২০১১ সালে তৃণমূল যখন ক্ষমতায় আসে, তৃণমূলের কোনও সংগঠন ছিল না। বামেদের অনেক ভালো সংগঠন ছিল। তাহলে বামেরা হারল কেন? আসলে নির্বাচন শুধু সংগঠনের উপর নির্ভর করে না। আরও অনেক ফ্যাক্টর আছে। ২০১১ সালই তা বুঝিয়ে দিয়েছে। তখন বামেদের ক্যাম্প অফিসগুলিতে যে সংখ্যক মানুষ বসতেন, তার এক তৃতীয়াংশ লোক তৃণমূলের ক্যাম্পে ছিল না। তবুও তো তৃণমূল জিতেছে”।





