‘মুখ্যমন্ত্রী তলে তলে বাংলাকে বাংলাদেশ বানাবেন, আর সেই খবর দেখালেই সাংবাদিকদের গ্রেফতার করা হবে’?, সাংবাদিক গ্রেফতারির ঘটনায় মমতাকে তুলোধোনা সুকান্তর

সম্প্রতি রাজ্যে সাংবাদিকদের গ্রেফতারি নিয়ে চলছে তুমুল চর্চা। এই গ্রেফতারি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র বাক্যবাণে শানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর দাবী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তলে তলে পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা করছেন।

কালীপুজোর বিসর্জনের দিন কলকাতার রাজাবাজারে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে যে সংঘর্ষ হয়, সেই ঘটনার সম্প্রচার করা হচ্ছিল এক ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের তরফে। সেই ঘটনা সম্প্রচার করায় ওই সংবাদমাধ্যমের ২ সাংবাদিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই ঘটনা নিয়েই এবার মমতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন সুকান্ত মজুমদার।

গতকাল, বুধবার উত্তর ২৪ পরগণার ব্যারাকপুরের এক জগদ্ধাত্রী পুজো উদ্বোধনে গিয়েছিলেন সুকান্ত মজুমদার। সেখান থেকে রাজ্য সরকার শানিয়ে তিনি বলেন, “রাজ্য সরকার কোর্টের সামনে গিয়ে বারবার বেইজ্জত হচ্ছে। উত্তর কলকাতার রাজাবাজার অঞ্চলে কালীপুজোর বিসর্জনের মিছিলে হামলা হয়েছে। এটা লুকোনোর কী আছে? রাজ্য সরকার যতই বলুক গাড়ি রাখা নিয়ে, পার্কিং নিয়ে গন্ডগোল। পার্কিং নিয়ে যদি কারও সাথে গন্ডগোল হয় দু’জন ব্যক্তির মধ্যে গন্ডগোল হবে”।

সুকান্তের কথায়, “আমরা সেদিন দেখেছি দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে দাঙ্গা হয়েছে। সত্যিই দাঙ্গা হয়েছে। আপনি সত্যটাকে সত্য বলবেন না? মুখ্যমন্ত্রী তলে তলে বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা করবেন? আর যদি কোন সংবাদমাধ্যম সেটাকে দেখায় তার জন্য সাংবাদিকদেরকে গ্রেফতার করা হবে। এটা চলতে পারে না গণতান্ত্রিক দেশে”।

সম্প্রতি কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে মহিলাদের হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সেই ঘটনার প্রসঙ্গও টেনেও এদিন সুকান্ত বললেন, “আবার রাজ্য সরকারের ডিভিশন বেঞ্চে মুখ পুড়েছে অন্য একটি কেসে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আমাদের এই লোকসভার দমদম লোকসভার একজন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ বেধড়ক মারে। আমরা কোর্টের সামনে যাই, কোট অর্ডার দিয়েছে এটা সিবিআই তদন্ত হবে। সেই সিবিআই তদন্তকে আটকানোর জন্য ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছিল রাজ্য সরকার। ডিভিশন বেঞ্চ দুই গালে দু’টো থাপ্পড় খেয়ে নন্দলাল হয়ে রাজ্য সরকার ফিরে এসেছে। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে এই ঘটনার সিবিআই তদন্ত হবে”।

আর পড়ুনঃ রাত জেগে চন্দননগরে দেখুন জগদ্ধাত্রী পুজো, হাওড়া থেকে ব্যান্ডেল পর্যন্ত বিশেষ লোকাল চালাবে রেল, মাঝরাতেও চলবে ট্রেন

তিনি আরও বলেন, “পুলিশেরা কাস্টডিতে থাকা অবস্থায় পুলিশ কারুর গায়ে হাত দিতে পারে না, পুলিশের সেই অধিকার নেই। সেই পুলিশেরা এবার জেলে যাবে, ভাইপো বাঁচাতে পারবে না। আমি আপনাদের মাধ্যমে পুলিশ কর্মীদের বার্তা দিতে চাই, আপনারা আপনাদের চাকরি বাঁচানোর জন্য নিরপেক্ষ ভাবে থাকুন, না হলে চাকরি খেলে কিন্তু ভাইপো বাঁচাতে আসবে না”।

RELATED Articles