প্রবল বিজেপি ঝড়ে যখন টলমল করছে তৃণমূলের তরী, তখন ফের শাসকের অস্বস্তি বাড়িয়ে বেসুরে মন্তব্য করলেন বর্ধমান পূর্ব কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুনীল মণ্ডল।
বললেন “তোলাবাজরা দলের ভাল পদ পাচ্ছে। দল এই বিপদের মুখেও এক জোট হচ্ছে না। সেইজন্যই আসানসোলের জিতেন্দ্র তিওয়ারি, বর্ধমানের খোকন দাসদের মত একনিষ্ঠ কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। দীর্ঘদিন ধরে দাবিয়ে রাখা হলে বিস্ফোরণ তো ঘটবেই। ভোটের মুখে এখন সেটাই হচ্ছে। দলের মধ্যে যারা তোলাবাজি করছে তারা ভালো জায়গা, ভাল পদ পাচ্ছে। তার ফলে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।”
এমনিতেই প্রায় তৃণমূল ত্যাগী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাংসদ সুনীল মন্ডলের পোস্টারকে কেন্দ্র করে এমনিতেই বঙ্গ রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে৷
মুকুল রায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে গত বেশ কয়েক মাস ধরেই তৃণমূলের সন্দেহের নজরে রয়েছেন বর্ধমান পূর্ব কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুনীল মণ্ডল।
্তার মাঝেই কাঁকসায় নিজের বাড়িতে বসে শাসক দল বিরোধী আক্রমনাত্মক মন্তব্য করলেন বাংলার দুঁদে এই রাজনীতিবিদ।
তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে যোগদান করা প্রশান্ত কিশোরকে কটাক্ষ করে বলেন, “যাঁরা পয়সা নিয়ে পাহারাদার হয় তারা কী কখনও রাজনীতি করতে পারে? আমরা তো পয়সা ছাড়া রাজনীতি করি। দলের সংগঠনকে বাড়িয়ে তুলি। ভাড়াটে সৈন্য নিয়ে কখনও যুদ্ধ জয় হয় না। এভাবে দল চলে না। চলতে পারে না। মুখ্যমন্ত্রী যা বলবে মেনে নেব। কিন্তু স্তাবকদের কথা শুনব না। দরকারে রাজনীতি ছেড়ে দেব সাংসদ বিধায়ক হয়ে থাকতেই হবে আমার এমন কোনও চাহিদা নেই।”
প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে তৃণমূলের অন্দর মহলেই তীব্র ক্ষোভ। একাধিক নেতার কথায় ইতিমধ্যেই বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে। সেই তালিকায় এবার সংযোজিত হলো সুনীল মণ্ডলের নাম।
পিকের প্রসঙ্গে বলেন, “ও বাংলার রাজনীতির কী বোঝে? বাংলার রাজনীতি বোঝা অত সহজ নয়। এখন বাইরে থেকে এনে যদি বলা হয় ওরা সব করবে আর আমরা বসে থাকব তা তো হতে পারে না। আজ তো কর্মীদের ক্ষোভটা সেখানেই। সাংগঠনিক শক্তি যদি মজবুত না হয় তাহলে কোনও দল দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। ইতিহাস সে কথাই বলছে। সেজন্যই এতো উন্নয়নের পরও তা কাজে কাজে আসছে না। মানুষ বিভ্রান্তি পথে হাঁটছে।”
এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য যে দলবদলে ইঙ্গিত দিচ্ছে তা বলাই বাহুল্য।





